কাজ ফেলে লাপাত্তা ঠিকাদার, সড়কে ধানগাছ লাগিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৭:৩৬ পিএম


কাজ ফেলে লাপাত্তা ঠিকাদার, সড়কে ধানগাছ লাগিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের শ্রীপুরের নয়নপুর-বরমী সড়কের সংস্কারকাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়ে যাওয়ায় সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী এ প্রতিবাদ জানান।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ওই সড়কের দুই কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে ফেলে রাখায় তারা ধানের চারা রোপণ করেন।

নয়নপুর-বরমী সড়কের নয়পুর অংশে দুই কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ ফেলে প্রায় দুই বছর ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা, শ্রীপুরের কাওরাইদ, বরমী, তেলিহাটী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সড়কটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে যেতে সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিওবি মেইনটেনেন্স (সরকারের নিজস্ব তহবিল বা রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নে সরকারি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কার্যক্রম) প্রকল্প-৩ এর আওতায় সড়কটি উন্নয়নের দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠার মেসার্স শাম্মী এন্টারপ্রাইজ কার্যাদেশ পায়। নয়নপুর বাজার থেকে সিসিডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে। তবে রাস্তা খোঁড়ার পর ইটের খোয়া ফেলে প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের নামে পুরোনো সড়কটি খুঁড়ে কেবল খোয়া ফেলে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব খোয়াও সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে সেসব গর্তে পানি জমে আছে। মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিয়েই সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় নয়নপুর বাজারসংলগ্ন সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিল্প কারখানার শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সড়কের ওই অংশে যানবাহনের চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ী রাকিব মিয়া, সুলতান উদ্দিন ও মোস্তফা কামাল বলেন, বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে দুই বছর ধরে রিকশা চালাতে পারি না। আয়-রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও এখন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

পল্লি চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় এলাকার লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। সংস্কারকাজ শুরুর আগে সড়ক দিয়ে তবু চলাচল করতে পারতাম। এখন তো চলাই দায়। কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার লাপাত্তা। আমরা জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মেসার্স শাম্মী এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিশ করেও রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু করাতে পারিনি। ঠিকাদারকে জরিমানা ও কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এটা ঠিকাদারের গাফিলতির কারণ। এখন তার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে টেন্ডার বাতিল করে আবার নতুন করে টেন্ডার দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission