বিদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে দেশি বিনিয়োগকারীদেরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে সরকার। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে। একটি বিদেশি বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরি করতে খুব শিগগির তার খসড়া প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। জানালেন বিডা নির্বাহী সদস্য অজিত কুমার পাল।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আমরা কাজ করছি। সে জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও ডাটা সংগ্রহের কাজ চলছে। সকল দিক বিবেচনা করে একটি সার্বজনীন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
অজিত কুমার পাল বলেন, এ ক্ষেত্রে ভারতসহ অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া স্টেকহোল্ডার ও বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেয়া হবে।
অজিত কুমার আরো বলেন, বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের গার্মেন্টসবহির্ভূত অন্যান্য শিল্পেও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমরা শুধু রপ্তানি খাতের জন্য নয়, সব খাতের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্তে এ সুযোগ চাই। এ জন্য সরকারি পর্যায় থেকে দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা অনেক দক্ষ। বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ না পেয়ে দেশে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। মূলত এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে তাদের বিনিয়োগের কোনো কথা ছিল না। এসব ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দিলে এ ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
এমসি/এমকে




