ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে নীতি সহায়তার আহ্বান বিজিএমইএ’র

বাসস

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। ছবি: সংগৃহীত

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের নীতি সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানায়।

বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং খাতটির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে পোশাক শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তা জরুরি।

বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা (ওএসএইচ) তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এ ধরনের দায়িত্ব আরএসসির ওপর আরোপ করলে শিল্পে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন যে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষ ও স্থানীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে: আমদানি ও বন্ড নীতি সহজীকরণ, এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা, বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ দ্রুত সংশোধন।

এ ছাড়া রপ্তানি প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন প্রত্যাহার, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়।

বিজিএমইএ আরও প্রস্তাব করে, তৈরি পোশাক রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণে ‘আমদানি নীতি ২০২৪-২০২৭’-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সিআইপি মর্যাদা নির্ধারণ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিজিএমইএ’র উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১টি অত্যাধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, “আজকের এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের চলমান বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের বহর পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার আলোকে এই ক্রয়াদেশ প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের যে কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে, তা উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমাদের আস্থা জুগিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি বিস্তৃত ও সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।” নতুন এই চুক্তি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি বিমানের পরিচালন সক্ষমতা, পরিচালনাগত নমনীয়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি সহায়ক হবে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বিমান পরিবহন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বহর গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় অগ্রাধিকার, প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের ক্রমবিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ভবিষ্যতেও তার বহর ও নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করবে।
আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের
সার ও মসুর ডাল আমদানি নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
দেশের বর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার পৃথক প্রস্তাবে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
সার ও মসুর ডাল আমদানি নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
জাপানে রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা
নির্দিষ্ট কিছু বাজারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে তৈরি পোশাক খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করতে নতুন বাজার হিসেবে জাপানে রপ্তানি বাড়াতে চান বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।
জাপানে রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা
বিদ্যুতায়ন বাড়িয়ে জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি কমাতে পারে বাংলাদেশ: আইইএ
পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে বাংলাদেশ। এতে খরচ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।
বিদ্যুতায়ন বাড়িয়ে জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি কমাতে পারে বাংলাদেশ: আইইএ
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
আরও পড়ুন
ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী টেক্সটাইল সিরিজের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী
চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে বিজিএমইএ-ওকাইব বৈঠক
বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
নতুন রপ্তানি গন্তব্য অনুসন্ধানে সরকার, ৫ অঞ্চলকে গুরুত্ব: বাণিজ্যমন্ত্রী