বন্দরগুলোর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৭:২৮ পিএম


বন্দরগুলোর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
ডিসিসিআই আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: সংগৃহীত

বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের সমন্বয় ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার  (৯ মে) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আমাদের লজিস্টিক খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে, আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছি। স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বন্দরগুলোতে পেপারলেস অটোমেটেড ব্যবস্থা চালুকরণ, পিপিপি-এর মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন এবং আধুনিক কোল্ড চেইন লজিস্টিকসে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও টেকসই লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম নিশ্চিতের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি, যা ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। এ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সম্প্রসারণের তেমন সুযোগ নেই, তাই আমাদেরকে রেলপথ একমাত্র ভরসা এবং বন্দরের সঙ্গে রেলপথের সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এতে স্বল্প সময় ও ব্যয়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে। 

দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর অন্তত ১টি পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তবভিত্তিক না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, বিশেষ করে যোগাযোগ অবকাঠামো হতে ইতিবাচক ফল পেতে হলে তাকে অবশ্যই সমন্বিত হতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়তে হবে। 

এছাড়াও সরকারি সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের জন্য ন্যাশনাল লজিস্টিক পলিসি গ্রহণ করতে হবে।

এডিবির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ধীরাশ্রম আইসিডি কনটেইনার ডিপো এবং একটি মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিবি কাজ করে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে লজিস্টিক সেবার সকল স্তরের ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার নিশ্চিতের উপর তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। 

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, আমাদের জিডিপিতে উৎপাদনমুখী খাতের অবদান প্রায় ২৫%, যেখানে প্রতিবেশি দেশগুলো বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং তবে উৎপাদনমুখী খাতের অবদান আরও বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরো গুরুত্ব আরোপ করা আবশ্যক।

তিনি উল্লেখ করেন, গত চার দশকে বাংলাদেশের রপ্তানিতে আমূল ইতিবাচক পরিবর্তন আসলেও আমাদের রপ্তানি মূল গুটিকয়েক পণ্য ও বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য বিষয়ক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নীতিবিষয়ক সংস্কার ও যুগোপযোগীকরণের উপর গুরুত্ব দেন।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission