লালমাটিয়ায় স্কুলে সংঘর্ষ ও ‘দখলচেষ্টার’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৪:২৮ পিএম


লালমাটিয়ায় স্কুলে সংঘর্ষ ও ‘দখলচেষ্টার’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
লালমাটিয়ায় স্কুলে সংঘর্ষ ও ‘দখলচেষ্টার’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে মালিকানা বিরোধ, অনিয়ম ও ‘দখলচেষ্টা’ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সাবেক অধ্যক্ষ্যের লোকজন হামলা চলিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর দুপুরে বিদ্যালয়ের লালমাটিয়া শাখায় সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আখতারুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, সাবেক প্রিন্সিপাল আনিসুর রহমান সোহাগের নির্দেশে একদল বাহিনী সকালে স্কুলে হামলা চালায়, এতে শিক্ষক–কর্মচারীরা লাঞ্ছিত ও আহত হন। এ সময় স্কুলে পরীক্ষা চলছিল। 

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চারা এমন ঘটনা জীবনে কখনো দেখেনি। অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, স্কুলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান জানান, ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর ‘পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ বন্ধ হওয়ার পর সেখানকার কিছু শিক্ষার্থী তার প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়। এরপর থেকে লালমাটিয়া, মিরপুর ও উত্তরায় এই তিনটি শাখা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সোহাগকে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয় বলে জানান মো. আখতারুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন, সোহাগের জমা দেওয়া শিক্ষাগত সনদ ‘জাল’, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অবৈধ ঘোষণা করে। পরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডও তাকে অপসারণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানে আনিসুর রহমান সোহাগের ৪২ জন আত্মীয় কর্মরত, যারা ‘বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত’—দাবি চেয়ারম্যানের।

চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান জানান, সোহাগ ৯ মাস ধরে স্কুলে না আসলেও প্রিন্সিপাল পরিচয়ে বেতন নিয়েছেন। সিগনেটরি জটিলতার কারণে বেতন বন্ধ করা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

আখতারুজ্জামান জানান, ১৩ অক্টোবর মালিকানা ও পরিচালনা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব মেটাতে একটি আরবিট্রেশন বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুক্তার আহমেদসহ সদস্যরা আড়াই মাস তদন্ত চালান। সমাধান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগমুহূর্তে ‘দুষ্টুচক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে হামলা চালায়’।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সোহাগ মূল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন না। বরিশালের ঝালকাঠির একজন আওয়ামী লীগ নেতার চাপেই সোহাগকে বিনা পুঁজিতে প্রতিষ্ঠানে নিতে হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় ঘটনায় জড়িত সব কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হবে। একইসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে। তার পাশাপাশি জানুয়ারি মাস থেকে দুইটি স্কুলবাস চালু করা হবে। তাছাড়া স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ শুরু হবে।

মালিকপক্ষ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেবে না বলেও তিনি জানান।

চেয়ারম্যান অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার রক্তের বিনিময়ে হলেও বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ লালমাটিয়ায় ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে পুলিশ পিটিয়ে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র হত্যার পাঁচ মামলার আসামি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফাকে ছিনিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আনিসুর রহমান সোহাগ। অভিযুক্ত সোহাগ নিজেও জুলাই আন্দোলনের ১১টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি।

আরও পড়ুন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহদাত হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে গোলাম মোস্তফা, আনিসুর রহমান সোহাগসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে এসব ঘটনার প্রমাণ আছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission