ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

অনেক কলেজে বন্ধ হতে পারে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স: উপাচার্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, কোনো কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে সেখানে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ তথ্য জানিয়েছেন।

উপাচার্য বলেন, সেশনজট কমাতে বিশেষ রোডম্যাপ করা হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট থাকবে না।

স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে উপাচার্য আমানুল্লাহ বলেন, ‘প্রথম বর্ষের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষেও ১০০ নম্বরের কমিউনিকেটিভ ইংলিশ কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, আইসিটি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় বর্ষেও ১০০ নম্বরের আইসিটি কোর্স রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় সারা দেশে প্রায় ১২ হাজার আইসিটি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইসিটি শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ খাতে যুক্ত করা হবে।

কোনো কলেজে সঠিকভাবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালিত না হলে তা বন্ধ করা হবে, এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে বলেও জানান অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, যত্রতত্র স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স খোলা হয়েছে। অনেক কলেজে শিক্ষক ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, এগুলো আমরা রিভিউ করছি। আমরা নতুন করে কোর্স চালু করার প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছি। আর যেসব কলেজে সঠিকভাবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালিত হবে না তা বন্ধ করা হবে।

ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে নতুন কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন কোর্স চালু করা হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে স্টিম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথমেটিকস) ভিত্তিক শিক্ষা বিস্তৃত করা হবে।

বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই হাইব্রিড পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবে। এ ছাড়া অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইংরেজি শিক্ষায় মেন্টরিং দেবে। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার আলোচনা চলছে।

বেকারত্ব কমাতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও বাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ফাঁক রয়েছে। এই গ্যাপ কমাতে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি চালু করা হয়েছে, যেখানে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে স্নাতকের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কিল কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্নাতকের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে গুচ্ছভিত্তিক কোর্স থেকে শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারবে। এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থীরা মূল ডিগ্রির পাশাপাশি অতিরিক্ত সার্টিফিকেশন পাবে, যা দেশে-বিদেশে চাকরির বাজারে সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, এতে ইতিমধ্যে অনেক কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকসংকট রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ হাজার প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বক্তব্যে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়। এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রক্টর। তবে তাঁর এ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে প্রথমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরুভোজের কর্মসূচি দিলেও পরে তা এগিয়ে আগামীকাল করার ঘোষণা করেছেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।  বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দাও’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে প্রথমে শুক্রবার হলেও পরে একদিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।  তবে আয়োজকদের দাবি, ইটগুলো মন্দিরের বলে জানার পর তাঁরা সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করেন এবং রান্নার স্থান পরিবর্তন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আরটিভি/এসআর    
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ৭টি ডিসিপ্লিনের ৭ জন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ও দুই উপ-উপাচার্যসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন।
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ১৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ছয় মাসের ফেলোশিপ সম্পন্ন হয়েছে।  দৃক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম অ্যান্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম ফেলোশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও প্রকল্প প্রদর্শনী বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, পদ্মার এপারে বিশাল জনবসতি থাকলেও এ অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং মিঠাপানির প্রবাহও কমে গেছে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ তৈরি করায় দৃক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সাংবাদিকতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। দৃকের প্রতিষ্ঠাতা, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজকের খুলনা আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। ফেলোরা সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাজে মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মনের বিকল্প হতে পারে না এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন। ফেলোদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন। অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফেলো এবং দৃক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
আরও পড়ুন
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবায় অংশ নিতে প্রস্তুত রুয়েট
অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু বুধবার, যেভাবে করবেন
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের