ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জাবিতে দিনে অপচয় হয় ১৫ লাখ লিটার পানি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতিদিনের পানির চাহিদা ৩৩ লাখ লিটার, ওঠানো হয় সাড়ে ৫০ লাখ। একদিনেই অপচয় ১৫ লাখ লিটারের বেশি। গবেষণা বলছে, মাত্র দুই বছরে ক্যাম্পাসে পানির স্তর গড়ে সাড়ে ৭ ফুটের বেশি (২ দশমিক ৩৩ মিটার) নিচে নেমেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাজেদা ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান সরকারের দুটি গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পাঁচটি ভূগর্ভস্থ পর্যবেক্ষণ কূপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে সাড়ে ৫০ লাখ লিটার পানি তোলা হয়। অথচ ক্যাম্পাসের প্রকৃত চাহিদা ৩৩ লাখ লিটার। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ লিটার পানি অপচয় হচ্ছে- যা মোট উত্তোলনের ৩৫ শতাংশ।

অধ্যাপক মাজেদা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সিস্টেম লস (সরবরাহ লাইনের ত্রুটি) এবং হলের ট্যাংক উপচে পড়ার কারণেই মূলত এই বিপুল অপচয় হচ্ছে। পানির ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভবনগুলোকে আলাদা জোনে ভাগ করা না গেলে এই অপচয় রোধ করা কঠিন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পানির স্তর এভাবে নামতে থাকলে জলাধারের হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ কমে যাবে। এতে ভবিষ্যতে ‘ভূমি অবনমন’ বা ভূমি ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা ক্যাম্পাসের ভূ-উপরিস্থ অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

গত কয়েকদিন সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম, বিজ্ঞান কারখানা ও কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন পানির লাইনগুলোতে লিকেজ রয়েছে। হলের পানির ট্যাংক ওভারফ্লো হওয়াকে ‘নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অনুপ সরকার।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, কখনও কখনও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পানি পরতেই থাকে। মনে হয়, কর্মচারীরা পাম্প চালু করে দিয়ে ভুলে যান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী (সিভিল-২) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, পাইপগুলো ১৯৭৩ সালের তৈরি। পুরোনো হওয়ায় এগুলোর পুরুত্ব কমে গেছে এবং লিকেজ হচ্ছে। ক্যাম্পাসের রাস্তার কাজ শুরু হলে পুরোনো পাইপগুলো বদলে ফেলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যাম্পাসে মাঝেমধ্যে পানির কল চুরির ঘটনা ঘটে, তখন অপচয় হয়। তবে যেসব জায়গায় লিকেজ ছিল তার বেশিরভাগই ঠিক করা হয়েছে এবং বাকিগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।

গবেষণার তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মীর মশাররফ হোসেন হলে পানির স্তর ২ দশমিক ৩৭ মিটার এবং মওলানা ভাসানী হলে ১ দশমিক ৯৭ মিটার নিচে নেমে গেছে। এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র এলাকায় ২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিশমাইল এলাকায় ২ দশমিক ৮৩ মিটার ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগে ১ দশমিক ৮৯ মিটার পানির স্তর নেমেছে।

কেন এভাবে পানির স্তর নামছে- এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষক মিজানুর রহমান সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যাম্পাসের নিচে থাকা ‘ডুপি টিলা’ জলাধারটি মূলত একটি আধা-আবদ্ধ বালুময় স্তর। এর ঠিক ওপরেই রয়েছে গড়ে ১০ দশমিক ৩৬ মিটার পুরু ‘মধুপুর কাদা’র আস্তরণ। এই পুরু কাদার কারণে বৃষ্টির পানি সহজে চুইয়ে ভূগর্ভে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেও প্রাকৃতিকভাবে পানির স্তর রিচার্জ বা পুনর্ভরণ হচ্ছে না। অথচ প্রতিদিনই ভূগর্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ পানি তোলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কৃত্রিম রিচার্জ কাঠামো নির্মাণ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মিজানুর রহমান সরকার বলেন, পানির স্তর একবার অতিমাত্রায় নিচে নেমে গেলে প্রাকৃতিকভাবে তা আর আগের অবস্থায় ফেরে না। এ ক্ষেত্রে আমরা কৃত্রিম পুনর্ভরণ কূপ নির্মাণ করতে পারি। বিভিন্ন ভবনের ছাদের বৃষ্টির পানি দূষণমুক্ত করে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি ভূগর্ভে পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

অধ্যাপক মাজেদা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পানি ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভবনগুলোকে আলাদাভাবে ভাগ করতে হবে। নইলে অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে না। যেমন ছুটির সময়ে ভিসি অফিসে যতটা পানির প্রয়োজন হবে, সাধারণ ভবন ও বিভাগগুলোতে ততটা পানির প্রয়োজনীয়তা না-ই থাকতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে পানির সংযোগ লাইন আলাদা করতে হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত আরও ৩৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নতুন করে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫৯৪ শিক্ষককে বিএড স্কেল এবং ৫ হাজার ৪৭৪ শিক্ষককে উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট কিংবা স্থানীয় দোকানদারের পরিচয় ব্যবহার করে ফোনে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পরে থানায় মামলা করার হুমকি দিয়ে চক্রটি দাবি করছে বড় অঙ্কের টাকা।
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজন এবং ‘মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’ (এমআইবি)-এর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’।
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।  এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরির জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।  ওই শিক্ষার্থীর দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোর্ট তৈরি করব বলে সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের কারণে সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাঁশের সঙ্গে আমাদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর আমাদের নির্ধারিত জায়গায় তারা কোর্ট তৈরি করতে চায়। বিষয়টি জানালে তারা মেনে নেওয়ার কথা বলে।  ‘কিন্তু আজ আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মোট তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে এবং অন্যজনের হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।  ‘হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভাঙার আশঙ্কায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে। মাথায় আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষতেও ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নিল রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় বসেছেন। এখনো ঘটনার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  আরটিভি/এসআর  
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা, ঘটনা কী
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে একপর্যায়ে কক্ষে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি বিদায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি চলায় দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে অডিটোরিয়ামের এক রাতের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৪টা থেকে ৫টা বেজে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরে তারা অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।  এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান তারা। কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক মনে করেই তারা প্রতিবাদ শুরু করেছেন।  আরটিভি/এসআর  
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা, ঘটনা কী
আরও পড়ুন
কেন হাসতে হাসতে চোখে পানি আসে
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, মাসে ভাতা ১০০০০
নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘বড় উদ্যোগ’