‘গুমের ভয়াবহতার বর্ণনায় দিয়ে হরর সিনেমাও বানানো যাবে’

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৫:০৭ এএম


‘গুমের ভয়াবহতার বর্ণনায় দিয়ে হরর সিনেমাও বানানো যাবে’
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম : ছবি আরটিভি

প্রথমে বিদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ইলেক্ট্রোকিউট করা, অথবা ১০ কেজি ওজনের হাতুরি দিয়ে মাথায় বাড়ি মেরে অজ্ঞান করে ফেলা। এতে অনেকে মাথার খুলি ফেটে মারাও যেত। এছাড়া অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা বা মেরে ফেলা হতো। যারা মারা যেত তাদের নদী খাল বিলে ফেলে দেওয়া হতো। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা যখন গুম-খুন নিয়ে তদন্ত করতে গিয়েছি, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, আসামিদের সঙ্গে কথা বলেছি, এর বিভৎসতা এর মধ্যে দিয়ে যে না গেছে সে বুঝতে পারবে না। আপনি বাসা থেকে, অফিস থেকে, রাজপথ থেকে হঠাৎ করে আপনি নাই হয়ে গেছেন। কালো পোশাক, সাদা পোশাকধারী অথবা যেকোনকেও কথা কথা বলতে একটা টান দিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়েছে। কেও কিছু বোঝার আগে আপনি নাই হয়ে গেছেন। 

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, যাদের গুম করা হতো তাদের ঢাকা শহরের নানা জায়গা ঘুরিয়ে গোপন বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানের যে বর্ণনা আমার দেখেছি বা শুনেছি তা দিয়ে হরর মুভি বানানো যাবে। সন্ধ্যার পর থেকে টর্চার শুরু হতো। আঙুল সুচ ফুটানো,যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, আঙুল কাটতো, কব্জি কাটতো, চোখ তুলে নিতো, মুখের মাংস তুলে নিত জীবত রেখে৷ এগুলো আবার ছবি তুলে টাঙিয়ে রাখা হত। অন্যদের দেখানো হতো আর বলা হতো তুই জঙ্গি নাহলে তোর এই অবস্থা করা হবে। এছাড়া লোহার মই থাকতো সেখানে মানুষের হাত পা বেধে যন্ত্রের সাহায্য ঘোরানো হতো। 

এরপর যারা স্বীকার করতো তাদের নানা রকমের মামলা দিয়ে জেলে রাখা হতো। আর যারা স্বীকার করতো না বা ভুলক্রমে তাদেরকে তুলেছে তাদেরকে চোখ মুখ বেধে মাঠে ফেলে দিয়ে যেত। এটা হলো যাদের ভাগ্য ভালো তাদের গল্প। আর যাদের এমন ভাগ্য হয়নি তাদের চোখ মুখ বেধে বিভিন্ন নদীর মাঝে নেওয়া হতো। তারপর মাথায় গুলি করে, পেট কেটে, সিমেন্টের বস্তা বেঁধে ফেলে দেওয়া হতো। 

বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission