যে কারণে মৃত্যুর আগের দিন তুষারকে খুঁজেছিলেন সালমান

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ , ০৩:৫৪ পিএম


যে কারণে মৃত্যুর আগের দিন তুষারকে খুঁজেছিলেন সালমান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন সালমান শাহ। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে তিনি জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়। সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেতার সঙ্গে প্রায় প্রতিটি ছবিতেই দেখা যেত অভিনেতা তুষার খানকে, যিনি ছিলেন সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, কাজের স্মৃতি এবং তার মৃত্যুর আগের দিন ঘটে যাওয়া কিছু না–ভুলতে পারা ঘটনা তুলে ধরেছেন তুষার খান।

সালমান শাহর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তুষার খান বলছেন, সালমান শাহ আমার বয়সে ছোট ছিল, কিন্তু আমাদের মধ্যে অসম্ভব ভালো একটা বন্ধুত্ব ছিল। বড় ভাই, বন্ধু যাই বলেন না কেন ওর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। শেষেরদিকে দেখা গেছে একসঙ্গে ২৪ দিন আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। হয়তো ৫টা দিন অন্য ফিল্মে কাজ করছি।

বিজ্ঞাপন

সালমানের সঙ্গে হৃদ্যতা বেশ ভালো ছিল জানিয়ে তুষার খান বলেন, আমরা কাজ করতাম রাত পর্যন্ত, এরপর ও ওর বাসায় চলে যেত, আমি আমার বাসায় চলে আসতাম। কখনো দেখা যেত ১১টা সাড়ে ১১টার দিকে ও আমার বাসায় চলে আসতো। আমাদের প্রতিদিনই আড্ডা হতো। সালমানের সঙ্গে কত স্মৃতি আছে বলে শেষ করা যাবে না। ও অনেক ভালো একটা মানুষ ছিল। অনেকে বলে না, ভালো মানুষ বেশি দিন থাকে না, আসলেই তাই।

সালমান কত শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন- বিশ্লেষণ করে তুষার খান বলেন, এত বছর হলো ও চলে গেছে, কিন্তু ফিল্মগুলো দেখলে মনে হয়তো এই তো সেদিনের ফিল্ম। এখনকার জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা যখন সালমানের কথা বলে তখন সত্যি ভালো লাগে। হতো তখন জন্মও হয়নি কিন্তু সালমানকে ভালোবাসে। তখনই বুঝতে হবে সালমান শাহ অভিনয় দিয়ে নিজের কোন জায়গাটা তৈরি করে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সালমানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তুষার বলেন, সালমানের যখন মন খারাপ থাকতো তখন প্রায়ই আমার সঙ্গে কথা বলতো। আমাকে টেলিফোনে বলতো, আমার ভালো লাগছে না। আমি তোমার বাসায় আসব। ওর ফোন পেয়ে আমি কোথাও আর বের হতাম না। আমরা একসঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলতাম। এতে অনেকেটাই ও ফ্রেশ অনুভব করত। পরদিন আবারও ফুরফুরে মেজাজে অভিনয় সেটে দেখতাম ওকে।

তুষার আরো বলেন, সালমান যেদিন মারা যায় তার আগের দিন আমি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরি। বিকেলে আমার আর ওর ‘প্রেমপিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ ছিল। ডাবিংয়ে যাওয়ার আগে আমি আমেরিকা থেকে আনা একটি পার্সেল আমার আত্মীয়ের বাড়িতে দিতে যাই। আমি এত ক্লান্ত অনুভব করি যে, সে আত্মীয়ের বাড়িতে পার্সেল আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে পড়ায় তারাও আমায় আর ডাকেনি।
 
মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সময় মনে করে তুষার বলেন, আমার ঘুম ভাঙে রাত পৌনে ১১টায়। সেদিন আর ডাবিংয়ে যাইনি। পরদিন সকাল বেলা পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের মেয়ে আন্নি আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সালমান সুইসাইড করেছে। আমি তখন বিষয়টা মেনে নিতেই পারিনি। আন্নিকে আমি আবার বলি, ওকি মারা গেছে। আন্নি জানায়, হ্যাঁ, এখন মেডিক্যালে। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে চলে যাই।

বিজ্ঞাপন

এরপরই আফসোস করে তুষার বলেন, হাসপাতালে পরিচালক রেজা হাসমত আমাকে দেখে বলেন, কালকে আপনি কই ছিলেন? আমি বললাম কেন? তখন রেজা জানান, গতকাল ডাবিংয়ের সময় সালমান খুব আপসেট ছিল। আপনাকে অনেক খুঁজেছে। ফোন করেছে। ফোনে না পেয়ে আপনার বাসায় লোক পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন

আফসোস করে এই অভিনেতা বলেন, এমন কথা শোনার পর আমার প্রায়ই মনে হয়, ও হয়তো অন্যদিনের মতো আমার কাছে কিছু কথা শেয়ার করতে চেয়েছিল। হয়তো আমার সঙ্গে কথা বলার পর ওর মনটা আবার ফ্রেশ হয়ে যেত। এমন দুর্ঘটনা হয়তো ঘটত না। আমার এখন মনে হয়, আমি ওইদিন কেন আত্মীয়ের বাসায় ঘুমিয়ে পড়লাম! এই কষ্টটা আমার সারাজীবন থাকবে। হয়তো আমি সেদিন না ঘুমিয়ে পড়লে আজও আমাদের মাঝে সালমান শাহ থাকতো। এত দর্শকের মন ভেঙে যেত না!

আরটিভি/কেআই

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission