যেভাবে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল 

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:০১ পিএম


যেভাবে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল 
ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র বর্তমানে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে ভারতজুড়ে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো উপমহাদেশে ভাইরাল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া সংবাদ।

বিজ্ঞাপন

ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ইন্ডিয়া টুডে- সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট দেওয়া হয়- বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মঙ্গলবার মারা গেছেন বলে তার টিম নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ‘ধর্মেন্দ্রর টিম’–এর কোনো নাম বা আনুষ্ঠানিক সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘আজ তক’ একই খবর প্রকাশ করে, সেখানে তো কোনো সূত্রই ছিল না। তবু এই দুই প্রভাবশালী মিডিয়ার পোস্টেই শুরু হয় ভাইরাল ঢেউ।

খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ওয়্যার, জি নিউজ, নিউজ১৮, এবিপি লাইভ ইংলিশ, ইন্ডিয়া ডটকমসহ প্রায় সব প্রধান সংবাদমাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সংবাদমাধ্যমেও ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ট্রেন্ড করতে শুরু করে হ্যাশট্যাগ ধর্মেন্দ্র। ফেসবুক, এক্স (পূর্বে টুইটার), ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে শোকবার্তা ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের গতিতে।

এই সময় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে শোকবার্তা দিয়ে লেখেন, বর্ষীয়ান অভিনেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ধর্মেন্দ্র জির মৃত্যুসংবাদে গভীরভাবে শোকাহত।

তার পরপরই ‘শোলে’র চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার লেখেন, ধরমজির সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক যুগের অবসান ঘটল।

এই দুই উচ্চপর্যায়ের পোস্ট মৃত্যুর গুজবটিকে বিশ্বাসযোগ্য রূপ দেয়- আরও বহু সংবাদমাধ্যম তখন এটিকে ‘অফিশিয়াল’ খবর হিসেবে প্রচার করতে থাকে।

ভোর গড়িয়ে সকাল। ধর্মেন্দ্রর মেয়ে এষা দেওল ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানান, মিডিয়া অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে ভুল খবর ছড়াচ্ছে। আমার বাবার অবস্থা স্থিতিশীল, উন্নতির পথে।

অভিনেত্রীর মা হেমা মালিনীও এক্সে (পূর্বে টুইটার) লিখেন, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। সংবাদমাধ্যমের উচিত যাচাই-বাছাই করে খবর প্রকাশ করা।

পরবর্তীতে সানি দেওলের টিমের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মেন্দ্র স্থিতিশীল আছেন, তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অনুগ্রহ করে গুজবে কান দেবেন না।

এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে ভারতের সংবাদমাধ্যমের যাচাইহীন সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা নিয়ে। দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রথমে পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক বা অফিসিয়াল মুখপাত্রের মন্তব্য নেয়নি।

আরও পড়ুন

পরবর্তীতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নিজেদের প্রতিবেদন সংশোধন বা প্রত্যাহার করেছে।

৮৯ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission