মার্ভেলের আসন্ন সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। এখন পর্যন্ত ছবিটির চারটি ভিন্ন টিজার প্রকাশ করা হয়েছে-যেগুলো আলাদাভাবে ক্যাপ্টেন আমেরিকা, থর, এক্স-মেন এবং সর্বশেষ ওয়াকান্ডান ও ফ্যান্টাস্টিক ফোরকে কেন্দ্র করে তৈরি। তবে নির্মাতাদের দাবি, এগুলো আসলে টিজার নয়।
ছবিটির পরিচালক রুশো ব্রাদার্স সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে ভক্তদের উদ্দেশে রহস্যময় বার্তা দেন। তারা লেখেন, গত চার সপ্তাহ ধরে তোমরা যা দেখছ… সেগুলো টিজার নয়। ট্রেলারও নয়। এগুলো গল্প। এগুলো সূত্র… মনোযোগ দাও।
এই বক্তব্যের আগে পর্যন্ত দর্শকরা টিজারগুলোকে সরলভাবেই দেখছিলেন। খুব বড় কোনো গোপন সংকেত বা ষড়যন্ত্রমূলক ইঙ্গিত কেউ বিশেষ খুঁজে পাননি। তবে সর্বশেষ ট্রেলারটি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়, যেখানে দেখা যায় কিছু চরিত্র বা ব্যাকগ্রাউন্ড এলিমেন্ট ডিজিটালি মুছে ফেলা হয়েছে। অনেকের ধারণা, সেখানেই হয়তো ডক্টর ডুম-কে আড়াল করা হয়েছে, যা ব্যাখ্যা করে কেন ওই অংশটি এত ফাঁকা ও অস্বাভাবিক লাগছিল।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কেউ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্বটি বলছে, প্রতিটি ট্রেলারে দেখানো ডুমসডে ক্লক আসলে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ড গেম’ সিনেমার নির্দিষ্ট ঘণ্টা ও মিনিটের দৃশ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রুশো ব্রাদার্স আগেই বলেছেন, ডুমসডে সরাসরি এন্ড গেম-এর সিক্যুয়েল।

এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ট্রেলারগুলোর সঙ্গে যুক্ত এন্ড গেম-এর দৃশ্যগুলো হলো:
স্টিভ রজার্স কোড: যেখানে দ্য এনশিয়েন্ট ওয়ান ব্রুস ব্যানারকে বলেন, টাইম স্টোন সরিয়ে নিলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
থর কোড: অ্যাভেঞ্জাররা লোকিকে আটক করার দৃশ্য, যেখানে মাইন্ড স্টোন থাকা সেপটার এবং স্পেস স্টোনসহ টেসারাক্ট দেখা যায়।
এক্স-মেন কোড: থর ও রকেট আসগার্ডে রিয়েলিটি স্টোন চুরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
ওয়াকান্ডা কোড: রকেট ও অ্যান্ট-ম্যানের মহাকাশে যাওয়া নিয়ে কথা, যা পাওয়ার স্টোন আলোচনা শেষে এবং সোল স্টোনের অবস্থান আলোচনার ঠিক আগে ঘটে।
এই চারটি দৃশ্য মিলিয়ে মার্ভেলের ছয়টি ইনফিনিটি স্টোনের সবগুলোরই উল্লেখ পাওয়া যায়। অনেকের ধারণা, এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে ইনফিনিটি স্টোনগুলো কোনো না কোনোভাবে ‘ডুমসডে’-এ ফিরে আসতে পারে, যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা লিক সামনে আসেনি।
তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, এটি কেবল কাকতালীয়ও হতে পারে, কারণ এন্ড গেম জুড়েই ইনফিনিটি স্টোন নিয়ে অসংখ্য আলোচনা রয়েছে। তা ছাড়া, অতীতে রুশো ব্রাদার্স গোপন ইঙ্গিত বা ধাঁধা দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা সফল হননি বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। আগেও তারা “ক্লু” বলে যেসব ছবি প্রকাশ করেছিলেন, সেগুলো অনেক সময়ই অস্পষ্ট, অদ্ভুত এবং খুব একটা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
সব মিলিয়ে, এখনো পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মার্ভেল ভক্তের কেউই নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যায় পৌঁছাতে পারেননি।
আরটিভি/কেআই



