নৃশংসভাবে হত্যার পর বলিউড অভিনেত্রীর মাথা বিচ্ছিন্ন করেছিলেন সহশিল্পীরা  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ১০:২১ পিএম


নৃশংসভাবে হত্যার পর বলিউড অভিনেত্রীর মাথা বিচ্ছিন্ন করেছিলেন সহশিল্পীরা  
ছবি : সংগৃহীত

বলিউডে নিজের জায়গা করে নেয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন অভিনয়শিল্পী মীনাক্ষী থাপা। কিন্তু অভিনয়ের নতুন কাজের প্রলোভনই হয়ে ওঠে তার মৃত্যুর কারণ। সহকর্মী পরিচয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়া দুই জুনিয়র শিল্পী তাকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে পরে দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনাটি ২০১২ সালের হলেও আজও এটি বলিউডের অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে আলোচিত।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে জীবন থেমে যায় মীনাক্ষীর। উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন থেকে মুম্বাইয়ে এসে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘৪০৪’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই সঙ্গে কারিনা কাপুর অভিনীত ও মধুর ভান্ডারকর পরিচালিত ‘হিরোইন’ সিনেমাতেও কাজ করেছিলেন। আর সিনেমার শুটিং সেটেই তার পরিচয় হয় জুনিয়র শিল্পী অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনের সঙ্গে। আর এরাই পরে অভিনেত্রীকে হত্যা করে। 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায় তদন্তে উঠে আসে, মীনাক্ষীর পারিবারিক কথাবার্তা শুনে অমিত ও প্রীতি ভুলভাবে ধারণা করেন যে তিনি ধনী পরিবারের মেয়ে। সেই ধারণা থেকেই তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা মীনাক্ষীকে জানান যে উত্তর প্রদেশে একটি অভিনয়ের কাজ ঠিক করা হয়েছে। নতুন সুযোগের আশায় মীনাক্ষী সেই প্রস্তাবে রাজি হন। ২০১২ সালের ১৩ মার্চ, তিনজন একসঙ্গে আলাহাবাদ থেকে রওনা দেন এটা যদিও এখন প্রয়াগরাজ নামে পরিচিত। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে মীনাক্ষীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৭ মার্চ মীনাক্ষীর মায়ের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে বার্তা আসে। সেখানে তিন দিনের মধ্যে ১৫ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে মীনাক্ষীকে জোর করে পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্রে কাজ করানো হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। মীনাক্ষীর পরিবারের পক্ষে এত অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তারা কোনোভাবে প্রায় ৬০ হাজার রুপি তার ব্যাংক হিসাবে জমা দেন কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি।

আরও পড়ুন

অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিন প্রথমে মীনাক্ষীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। মীনাক্ষীর দেহের মূল অংশ প্রীতি সুরিনের পারিবারিক বাড়ির কাছে আলাহাবাদের একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়। অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি একটি বাসে করে লখনউ যাওয়ার পথে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও পুলিশ তার মাথা উদ্ধার করতে পারেনি।

হত্যার পরও অভিযুক্তরা মীনাক্ষীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে তারা মীনাক্ষীর সিম কার্ড নিজেদের কাছেই রেখে দেয়। কল রেকর্ড ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল, মুম্বাইয়ের  বান্দ্রা রেলস্টেশনের কাছে একটি এটিএম বুথে ওঁত পেতে থাকে পুলিশ। সেখান থেকেই অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মীনাক্ষীর সিম কার্ড পাওয়া যায় এবং তার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলারও প্রমাণ মেলে। এর দুই দিন পর, ১৬ এপ্রিল, আলাহাবাদের সেই সেপটিক ট্যাংক থেকে মীনাক্ষীর মাথা বিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ৯ মে, মুম্বাইয়ের একটি দায়রা আদালত অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে হত্যা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকম ঘটনাটিকে ‘বিরলতম নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission