নরসিংদীতে মাঝারি ও হালকা মাত্রার একাধিক ভূমিকম্পের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর আজ শনিবার সকালে নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি কম্পন হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে রাজধানী ঢাকায় ৩.৭ মাত্রার মৃদু ঝাঁকুনিও অনুভূত হয়েছে। এই ঘটনার প্রভাবে দেশের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
তবে, ভূমিকম্প সম্পর্কে আমাদের অনেক অজানা তথ্য রয়েছে যা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমিকম্প সম্পর্কে ১২টি বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়: পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভূমিকম্প ঘটে। তবে মাত্র কিছু বড় ধরনের ভূমিকম্পই মানুষের চোখে পড়ে।
২. ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হতে পারে: ২০০৯ সালের জাপানের বড় ভূমিকম্পের ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সামান্য দ্রুত হয়, যার ফলে দিন কিছু মাইক্রোসেকেন্ড কমে যায়।
৩. সান ফ্রান্সিসকো সরে যাচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে: প্রতি বছর সান ফ্রান্সিসকো শহর লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে দুই ইঞ্চি সরে যাচ্ছে।
৪. ভূমিকম্পের আগে স্থির পানির দুর্গন্ধ: ভূমিকম্পের আগাম সংকেত হতে পারে পুকুর বা হ্রদের পানির দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
৫. ভূমিকম্পের পর পানিতে ঢেউ উঠতে পারে: ভূমিকম্পের কম্পনের কারণে সুইমিং পুল বা জলাশয়ের পানিতে ঢেউ ওঠার ঘটনা ঘটে, যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
৬. ইনকা ও জাপানি স্থাপত্যে ভূমিকম্প মোকাবিলার বিদ্যা: ইনকা সভ্যতা এবং জাপানের ঐতিহ্যবাহী প্যাগোডা গৃহ ভূমিকম্পের সময় টিকে থাকার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত।
৭. ৯০% ভূমিকম্প হয় প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায়: এই এলাকাটি পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম।
৮. চিলির একটি শহর ১০ ফুট সরে গেছে: ২০১০ সালে চিলির কনসেপসিওন শহর একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ১০ ফুট পশ্চিম দিকে সরে যায়।
৯. ভূমিকম্পে এভারেস্টের উচ্চতা কমেছে: ২০১৫ সালের নেপালের ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় এক ইঞ্চি কমে গিয়েছিল।
১০. জাপানি পৌরাণিক কাহিনী এবং ভূমিকম্প: জাপানের পৌরাণিক কাহিনীতে বিশাল ক্যাটফিশ নামাজুর নড়াচড়া ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
১১. প্রাণীর আচরণ ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে পারে: ভূমিকম্পের আগে অনেক প্রাণী অস্বাভাবিক আচরণ করে, যেমন উঁচু স্থানে চলে যাওয়া।
১২. ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক কারণ আবিষ্কার: ১৮ শতকে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন মাইকেল ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে পৃথিবীর অভ্যন্তরে শিলা-খণ্ডের গতিবিধিকে চিহ্নিত করেন।
ভূমিকম্প প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক ও ঘনঘন ঘটিত ঘটনা। এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে সচেতনতা ও প্রস্তুতি জরুরি। আশা করা যায়, সময়মতো তথ্য ও প্রস্তুতির মাধ্যমে মানুষ এই বিপদে নিরাপদ থাকতে পারবে।
আরটিভি/এসকে




