সাপের মতো দেখতে ভয়ংকর এক মাছ দেখা মাত্রই মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রবিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ‘স্নেকহেড ফিশ’ নামের এই আগ্রাসী প্রজাতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাছ শুধু পানিতেই নয়, পানির বাইরেও কিছু সময় বেঁচে থাকতে পারে যা স্থানীয় জলজ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বিজ্ঞানীরা জানান, বিভিন্ন কারণে বিদেশি মাছ এক দেশ থেকে অন্য দেশের নদী ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। কখনো অ্যামাজনের মাছ গঙ্গা নদীতে ধরা পড়ছে, আবার কখনো বাংলার বিভিন্ন নদীতেও অচেনা প্রজাতির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এসব মাছ চিনতে না পেরে আকৃষ্ট হলেও, এগুলো স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা।
সর্বশেষ যে মাছটি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি হলো স্নেকহেড ফিশ। সাপের মতো আকৃতির এই মাছের ওজন প্রায় ১৮ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে এবং এর রয়েছে ধারালো দাঁত। দ্রুত শিকার করার ক্ষমতার কারণে এটি খুব সহজেই অন্যান্য মাছ গ্রাস করে, ফলে স্থানীয় মাছের অস্তিত্ব দ্রুত হুমকির মুখে পড়ে।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্নেকহেড ফিশ যেখানে প্রবেশ করে, সেখানে স্থানীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। এ কারণেই মাছটি কোথাও দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নাডিনোর সিলভারউড লেকে এই মাছ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে জর্জিয়ার একটি লেকেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়, যা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে। সাপের মতো দেখতে হওয়ায় মাছটির নাম রাখা হয় ‘স্নেকহেড ফিশ’। গবেষকদের ধারণা, এর উৎপত্তিস্থল পূর্ব এশিয়া।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, স্নেকহেড ফিশের শ্বাসতন্ত্র এমনভাবে গঠিত যে এটি পানির পাশাপাশি বাতাস থেকেও অক্সিজেন নিতে পারে। ফলে পানির বাইরে, এমনকি ডাঙাতেও কিছু সময় টিকে থাকতে সক্ষম হয়। এই বৈশিষ্ট্যই মাছটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড ফিশ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণভাবে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই আগ্রাসী প্রজাতি বিভিন্ন দেশের জলজ পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
আরটিভি/এসকে




