পটুয়াখালী গিয়ে কেনো কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শাকিরা

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ০১:৪৮ পিএম


পটুয়াখালী গিয়ে কেনো কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শাকিরা
শাকিরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরার নাম। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ও ‘লা লা লা’র মতো বিশ্বকাপের জনপ্রিয় গান দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা এই শিল্পীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অনেকেরই অজানা, প্রায় দুই দশক আগে তিনি নীরবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় ‘সিডর’ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সেই দুর্যোগের পর জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন শাকিরা। 

২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তিনি রাজধানীতে বেশি সময় না কাটিয়ে ছুটে যান ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি পটুয়াখালীর সিডর-আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

সফরের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত ছিল ১১ বছর বয়সী নিপা নামের এক শিশুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ। সিডরে মা-বাবাকে হারানো ওই শিশুর কণ্ঠে একটি শোকের গান শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শাকিরা। পরে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, মেয়েটি বাংলায় এমন একটি গান গেয়েছিল যার অর্থ ছিল “মা, তুমি যেখানেই থাকো, আমাকে একটি চিঠি লিখো।” সেই কণ্ঠ তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করেন।

দুর্যোগের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে শাকিরা বলেছিলেন, পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। মানুষের সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং সন্তানহারা মায়েদের বেদনা তাকে নাড়া দিয়েছিল। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুদের হাসিমুখ, খেলাধুলা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক স্বপ্ন তাকে আশার আলো দেখিয়েছিল।

বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহীতেও ইউনিসেফের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

শিশুদের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে শাকিরার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ‘পিয়েস দেসকালসোস’  প্রতিষ্ঠা করেন। শৈশবে নিজ দেশের দরিদ্র শিশুদের দুরবস্থা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

ইউনিসেফ কর্মকর্তাদের মতে, শাকিরার বাংলাদেশ সফরটি ছিল অনেকটাই প্রচারবিমুখ। শিল্পীর নিজের ইচ্ছাতেই সফরটি সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রচারণার চেয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন এবং শিশুদের বাস্তবতা কাছ থেকে জানতে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

images?q=tbn:ANd9GcTG

বাংলাদেশ সফর শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাকিরা বলেছিলেন, বাংলাদেশের শিশু ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন। সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।

বিশ্বকাপের উন্মাদনার সময়ে যখন শাকিরার গান ও গ্ল্যামার নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশের অনেকের কাছেই অজানা থেকে গেছে তার এই মানবিক অধ্যায়। প্রায় দুই দশক আগে পটুয়াখালীর দুর্গত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, তাদের গল্প শুনে এবং তাদের স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করেই বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বিশ্বখ্যাত এই তারকা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission