ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

পটুয়াখালী গিয়ে কেন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শাকিরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
শাকিরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরার নাম। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ও ‘লা লা লা’র মতো বিশ্বকাপের জনপ্রিয় গান দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা এই শিল্পীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অনেকেরই অজানা, প্রায় দুই দশক আগে তিনি নীরবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় ‘সিডর’ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সেই দুর্যোগের পর জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন শাকিরা।

২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তিনি রাজধানীতে বেশি সময় না কাটিয়ে ছুটে যান ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি পটুয়াখালীর সিডর-আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

সফরের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত ছিল ১১ বছর বয়সী নিপা নামের এক শিশুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ। সিডরে মা-বাবাকে হারানো ওই শিশুর কণ্ঠে একটি শোকের গান শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শাকিরা। পরে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, মেয়েটি বাংলায় এমন একটি গান গেয়েছিল যার অর্থ ছিল “মা, তুমি যেখানেই থাকো, আমাকে একটি চিঠি লিখো।” সেই কণ্ঠ তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করেন।

দুর্যোগের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে শাকিরা বলেছিলেন, পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। মানুষের সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং সন্তানহারা মায়েদের বেদনা তাকে নাড়া দিয়েছিল। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুদের হাসিমুখ, খেলাধুলা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক স্বপ্ন তাকে আশার আলো দেখিয়েছিল।

বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহীতেও ইউনিসেফের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

শিশুদের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে শাকিরার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ‘পিয়েস দেসকালসোস’ প্রতিষ্ঠা করেন। শৈশবে নিজ দেশের দরিদ্র শিশুদের দুরবস্থা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

ইউনিসেফ কর্মকর্তাদের মতে, শাকিরার বাংলাদেশ সফরটি ছিল অনেকটাই প্রচারবিমুখ। শিল্পীর নিজের ইচ্ছাতেই সফরটি সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রচারণার চেয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন এবং শিশুদের বাস্তবতা কাছ থেকে জানতে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

images?q=tbn:ANd9GcTG

বাংলাদেশ সফর শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাকিরা বলেছিলেন, বাংলাদেশের শিশু ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন। সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।

বিশ্বকাপের উন্মাদনার সময়ে যখন শাকিরার গান ও গ্ল্যামার নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশের অনেকের কাছেই অজানা থেকে গেছে তার এই মানবিক অধ্যায়। প্রায় দুই দশক আগে পটুয়াখালীর দুর্গত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, তাদের গল্প শুনে এবং তাদের স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করেই বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বিশ্বখ্যাত এই তারকা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হ্যালোইন উৎসব কি, জেনে নিন পালনের নিয়ম
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব। পশ্চিমা দেশগুলোতে এর উৎপত্তি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও উৎসবটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।  তাই এ বছরও ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হবে বছরের অন্যতম মজার উৎসব হ্যালোইন। তাই আসুন জেনে নেওয়া যাক হ্যালোইন আসলে কী? ভুতুড়ে এই উৎসবটির ইতিহাস প্রায় ২,০০০ সালের পুরনো। এটি মূলত মৃত আত্মাদের স্মরণ করতে পালন করা হয়। অনেকে এই দিনকে ভূতের মতো করে সাজার জন্য পালন করে থাকেন। হ্যালোইন মূলত সাধুদের শহিদ এবং যারা মারা গেছেন তাদেরসহ মৃতদের সম্মান জানানোর দিন। বিড়ালের কান এবং ভ্যাম্পায়ার ফ্যাং থেকে শুরু করে সবুজ মুখের পেইন্ট পর্যন্ত, লোকেরা ভুতুড়ে চেতনাকে আলিঙ্গন করতে সমস্ত ধরণের পোশাক পরে। প্রায় ২,০০০ বছর আগে বর্তমান ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডে বসবাস করতো ‘কেল্টিক জাতি’। নভেম্বরের প্রথম দিনটি তারা ‘সাহউইন’ হিসেবে পালন করতো।  তাদের ধারণা ছিল অক্টোবরের শেষ দিন সবচেয়ে খারাপ হবে। সে রাতে সকল প্রেতাত্মারা মানুষের ক্ষতি করবে। তাই কেল্টিক জাতির মানুষরা এই দিনে বিভিন্ন ধরনের ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরতো। হ্যালোইন যেভাবে পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে উদযাপিত হয়। এগুলো বেশ মজাদার এবং ভুতুড়ে। এ দিন শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা একইভাবে পোশাক পরেন। আর “ট্রিক-অর-ট্রিটিং” শিশুদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। কারণ বাচ্চারা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ক্যান্ডি সংগ্রহ করে ঘরে ঘরে যায়।  বড়রা পার্টিতে যোগ দিতে ভুতুড়ে বাড়িতে যান বা হরর সিনেমা দেখেন। তবে কিছু জায়গার মানুষ আচার-অনুষ্ঠান বা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৃতদের সম্মান করেন। আরটিভি/এসআর
হ্যালোইন উৎসব কি, জেনে নিন পালনের নিয়ম
আজ বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উৎসব, ভূতুড়ে সাজে মাতবেন কোটি মানুষ
ভূত, প্রেত, ডাইনি কিংবা ভ্যাম্পায়ারের সাজে সেজে ওঠার দিন আজ। কোথাও কুমড়ো কেটে তৈরি হচ্ছে ভুতুড়ে মুখ, কোথাও বাড়ির দরজায় ঝুলছে কৃত্রিম মাকড়সার জাল।
আজ বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উৎসব, ভূতুড়ে সাজে মাতবেন কোটি মানুষ
আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস
আজ ৩১ অক্টোবর, বিশ্ব সঞ্চয় দিবস। ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মানুষকে নিয়মিত অর্থ জমানোর অভ্যাসে উৎসাহিত করতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।
আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস
আজ বই উপহার দেওয়ার দিন
আজ ৩১ অক্টোবর, ‘বুকস ফর ট্রিটস ডে’ বা বই উপহার দেয়ার দিবস। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবের প্রচলিত রীতিতে ভিন্নতা এনে শিশুদের ক্যান্ডি ও চকলেটের পরিবর্তে বই উপহার দেয়ার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
আজ বই উপহার দেওয়ার দিন
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
আরও পড়ুন
মসজিদের কক্ষে মুয়াজ্জিনের মরদেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য
পটুয়াখালী জার্নালিস্টস ফোরামের নেতৃত্বে নাবিল-আমিনুল
৫ খাল সাঁতরে বিদ্যালয়ে যায় চরকারফারমার শিশুরা
হারানোর ভয়ে বেঁধে রেখেও জিসানকে বাঁচাতে পারলেন না মা