ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির মাছ কোনটি?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
সবচেয়ে বড় মিঠাপানির মাছ বেলুগা স্টারজন। ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট নদী থেকে ১০৯ কেজি ওজনের একটি বিশাল লেক স্টারজন মাছ ধরেন গবেষকেরা। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এই মাছটি নদী থেকে তুলতে তিনজন জীববিজ্ঞানীর রীতিমতো বেগ পেতে হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর মাছটিকে আবার নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। গবেষকদের ধারণা, মাছটির বয়স ছিল ১০০ বছরেরও বেশি।

তবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির মাছ নয়।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, আকারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় মিঠাপানির মাছ বেলুগা স্টারজন। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলের কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণ সাগর, আজভ সাগর এবং এসব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত নদীগুলোতে এ মাছের বিচরণ। একটি পূর্ণবয়স্ক বেলুগা স্টারজনের দৈর্ঘ্য ২৬ ফুটের বেশি এবং ওজন সর্বোচ্চ দুই মেট্রিক টন বা দুই হাজার কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বিশাল আকৃতির কারণে এটি জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারিদের অন্যতম।

স্টারজন মাছের ইতিহাসও বিস্ময়কর। প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে ডাইনোসরের যুগেও এদের অস্তিত্ব ছিল। বর্তমানে পৃথিবীতে স্টারজন ও প্যাডেলফিশের মোট ২৭টি প্রজাতি টিকে আছে, যার মধ্যে বেলুগা স্টারজন সবচেয়ে বড়।

বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘায়ু এবং প্রজনন সুবিধাই এ মাছের বিশাল আকারের অন্যতম কারণ। বড় আকৃতির স্ত্রী স্টারজন তুলনামূলক বেশি ডিম পাড়তে পারে। পাশাপাশি বড় হওয়ায় এদের ওপর শিকারি প্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে।

তবে অতিরিক্ত মাছ ধরা, নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং ক্যাভিয়ারের চাহিদার কারণে বেলুগা স্টারজন এখন বিলুপ্তির মুখে। এর ডিম থেকে তৈরি বিখ্যাত ক্যাভিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে দামি খাদ্যপণ্যের একটি। এ কারণেই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে মহাবিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বর্তমানে বড় আকারের বেলুগা স্টারজন খুব কমই দেখা যায়। তাই বাস্তবে বিশাল স্টারজন দেখার সম্ভাবনা এখন বেশি হোয়াইট স্টারজন প্রজাতির ক্ষেত্রে, যা উত্তর আমেরিকায় তুলনামূলক ভালো সুরক্ষায় রয়েছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেলুগা ও হোয়াইট স্টারজনকে সাধারণত মিঠাপানির মাছ বলা হলেও তারা জীবনের বড় অংশ সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে কাটায়। ডিম পাড়ার জন্য তারা আবার নদীতে ফিরে আসে। অর্থাৎ এরা পুরোপুরি মিঠাপানির মাছ নয়।

তাহলে সম্পূর্ণ মিঠাপানিতে বসবাসকারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছ কোনটি?

এই রেকর্ডের প্রকৃত অধিকারী মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেকং নদীতে বসবাসকারী এই বিশালাকার ক্যাটফিশ আমাদের পরিচিত পাঙাশ মাছেরই আত্মীয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে এবং অতীতে ২৯৩ কেজি ওজনের একটি মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ ধরার রেকর্ড রয়েছে।

আরও পড়ুন

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষের তৈরি বাঁধ, আবাসস্থল ধ্বংস এবং অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে এই প্রজাতিটিও আজ মহাবিপন্ন। আইইউসিএন ইতোমধ্যেই মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশকে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন মঙ্গলবার
আদালতের নির্দেশেও কাটেনি জট, যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা
টেক্সাসে থ্রিডি প্রিন্টেড আবাসন প্রকল্প, বাড়ির দাম ৬ লাখ ডলার