ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি!

জিয়া আহমদ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
জিয়া আহমদ  : ছবি আরটিভি

সম্প্রতি বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের একটি আগাম সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদটি প্রত‍্যাশিত বিভিন্ন কারণে।

প্রথমতঃ এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আমলের লিগাসির একটা প্রাতিষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

দ্বিতীয়তঃ এই ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য আগামী দিনগুলোতে একটি দুশ্চিন্তামুক্ত ও স্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

বর্তমান বিএনপি সরকার এই রাষ্ট্রপতিকে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন এবং তার জন‍্য একটি সম্মানজনক প্রস্থানের ব‍্যবস্থা করেছেন, বিএনপি এ জন‍্য অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারে। চুপ্পু সাহেব মানুষ হিসাবে বা রাজনৈতিক বিবেচনায় যাই হোন না কেন, তিনি যে দেশের রাষ্ট্রপতি— বিএনপি অন‍্যান‍্য দলগুলোরমতো সেকথাটি ভুলে যায়নি।

তৃতীয়তঃ এরফলে সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কালে একজন নির্ভরযোগ্য মানুষকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে এই পদে নিয়োগের জন‍্য যে ধরনের মানুষদের নিয়োগের কথা প্রচারিত হচ্ছে, তা অনেকের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সরকার এই পদে একজন শীর্ষ আমলাকে নিয়োগের কথা বিবেচনা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি খুব নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ একই ধরনের কাজ গত সরকারও করেছে এবং তা খুব একটা বিবেচনাপ্রসূত হয়েছিল বলে কেউ মনে করছে না। তাছাড়া আলোচনায় থাকা এই আমলা গত সরকারের সময় কোন বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন, তাও নিশ্চিত না। ফলে, সরকার এই পথে হাঁটবে বলে মনে করি না।

অপর একটি সূত্র বলছে যে সরকার এই পদে আন্তর্জাতিক খ‍্যাতিসম্পন্ন একজন নারীকে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যিনি একজন দ্বৈত নাগরিক। বস্তুতঃ আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতিও একজন দ্বৈত নাগরিক। এছাড়াও গত সরকারের আমলে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরও দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। এতে সেই মানুষগুলোর এই দেশের প্রতি কোন দায়বদ্ধতার কারণ যেমন ছিল না, তেমনি তাদের কার্যকলাপেও কোন দেশপ্রেমিকের লক্ষণ দেখা যায়নি।

যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তারা তাদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যই যে তা করেছেন, সে কথা বলা নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া দেশের এই ধরনের সম্মানজনক পদগুলোতে যদি বিদেশি নাগরিকরা নিয়োগ লাভ করতে থাকেন, তাহলে দেশের একনিষ্ঠ নাগরিকেরা বঞ্চিত ও প্রতারিত বোধ করতেই পারেন, যা বাঞ্চনীয় না। সে কারণে সরকার কোন সুযোগসন্ধানী মানুষকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার মতো বড় ভুল করবে, এরকম আমি মনে করিনা।

আরও পড়ুন

সরকার এক্ষেত্রে একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতাকে এই পদে নিয়োগ করলে তা সর্বাঙ্গসুন্দর হবে। যে সকল রাজনৈতিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করছেন, নানা নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করেছেন, লোভলালসাকে তুচ্ছ করে দলের প্রতি একনিষ্ঠভাবে আনুগত্য ধরে রেখেছেন, সেই ধরনের মানুষকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত করলে বিএনপি ভালো করবে।

এর মাধ্যমে বিএনপি দু’টো বার্তা দিতে পারবে। প্রথমটি হলো বিএনপি তার আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাসী মানুষদের মূল‍্যায়ন করে। আর দ্বিতীয়টি হলো বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে সুযোগসন্ধানী মানুষদের জায়গা নাই। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো যে মানুষেরা ক্ষুদ্র ব‍্যক্তিগত লাভের জন‍্য দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতে পারেন, তারা ভবিষ্যতে যে অন‍্য কোন প্রলোভনের কাছে বিক্রি হবেন না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না। বিএনপি এই ধরনের মানুষদের দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক পদের জন‍্য বিবেচনা করে না।

বাংলাদেশের মানুষ এই পদে একজন সৎ, যোগ্য ও ব‍্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকে দেখতে পছন্দ করে। সরকারকে দেশের মানুষের সে প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানাতে হবে। বস্তুতঃ দেশের সাধারণ মানুষ এইসব ছোটখাটো বিষয় থেকেই আগামীর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ধীরে ধীরে মনস্থির করতে থাকে।

বিগত দিনে বিএনপি তার দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্য থেকেই এই পদে নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। সেকারণে এবার এই পদে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে আরও বেশি সাবধানতা ও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে, অতীতের একটি ভুল যেন সামনের দিনে আরও বড় ভুলের পথে বিএনপিকে ঠেলে না দেয়, তা মাথায় রাখতে হবে।

লেখক: নিরাপত্তা ও রাজনীতি বিশ্লেষক

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ হস্তান্তর, পুরস্কৃত দুই পুলিশ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুবদলের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ