ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সবুজ মাঠের আড়ালে অবৈধ অর্থের খেলা

এম এম মুসা

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ এএম
উন্নয়নকর্মী ও গবেষক এম এম মুসা। ছবি: আরটিভি

চার বছর পরপর সারা পৃথিবী একটি বলের পেছনে ছুটতে শুরু করে। কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশনের সামনে বসে থাকে, স্টেডিয়ামে গলা ফাটায়, পতাকা ওড়ায়। কিন্তু এই আবেগ আর উন্মাদনার আড়ালে চলে আরেকটি খেলা। যেখানে বল নয়, খেলা হয় শত শত কোটি ডলার নিয়ে।

ফিফা নিজেই জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের মোট পাঁচ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার আয়ের সত্তর শতাংশই এসেছে শুধু ২০১৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও বিপণন স্বত্ব বিক্রি থেকে। এত বিপুল অর্থের প্রবাহ যেখানে থাকে, সেখানে দুর্নীতির হাতছানিও থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মাঠের গল্পের সমান্তরালে চলেছে ঘুষ, জালিয়াতি, অর্থ পাচার আর ক্ষমতার অপব্যবহারের আরেক ইতিহাস।

যেদিন ফুটবলের ‘রাজপ্রাসাদ’ কেঁপে উঠল

২০১৫ সালের ২৭ মে ভোরবেলা সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি অভিজাত হোটেলে পুলিশ ঢুকে একে একে গ্রেপ্তার করে ফিফার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিন আদালতে সেদিন উন্মুক্ত করা হয় বিশাল এক অভিযোগপত্র, যেখানে চৌদ্দজন আসামির বিরুদ্ধে রেকেটিয়ারিং, তার-জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই ও করবিভাগের আয়কর তদন্ত শাখা তেত্রিশটি দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বছরের পর বছর ধরে এই তদন্ত চালিয়েছিল। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে চলা এক দীর্ঘ চক্রে ফিফা, কনমেবল ও কনকাকাফের কর্মকর্তারা মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব বিক্রির নামে অন্তত দেড়শ মিলিয়ন ডলার ঘুষ লেনদেন করেছেন।

তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল লরেটা লিঞ্চ এই কেলেঙ্কারিকে ফুটবলের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেন। কনকাকাফের সাবেক মহাসচিব চাক ব্লেজার ও সাবেক সভাপতি জ্যাক ওয়ার্নারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত দোষ স্বীকার করে নেন। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, পুরো তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল নিতান্তই একটি ব্যক্তিগত আয়কর ফাঁকির অনুসন্ধান থেকে, যা ক্রমে রূপ নেয় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি উন্মোচনে।

আয়োজক নির্বাচনের নেপথ্যে অর্থের খেলা

২০১০ সালে যখন রাশিয়াকে ২০১৮ এবং কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক ঘোষণা করা হয়, তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে ভোট কেনার অভিযোগ নিয়ে। ফিফা নিজেই মার্কিন আইনজীবী মাইকেল গার্সিয়াকে দিয়ে একটি তদন্ত করায়, কিন্তু সেই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

গার্সিয়া নিজেই পরে অভিযোগ করেন, প্রকাশিত সারসংক্ষেপ তাঁর প্রকৃত অনুসন্ধানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। বছরের পর বছর চাপের মুখে থেকে শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে ফিফা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। এরপর ২০১৯ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পেতে ফিফাকে আটশ আশি মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করেছিল বলে অভিযোগ।

এর আগেই আরেকটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফিফার সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ বিন হাম্মাম কাতারের পক্ষে সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন ফুটবল কর্মকর্তাকে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছিলেন বলে নথিপত্র পাওয়া যায়। রাশিয়া ও কাতার উভয় দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ফিফার তদন্তে তাদের সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি বলা হলেও, প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে যে বিডিং প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল।

মরুভূমিতে বিশ্বকাপ, শ্রমিকের রক্তে গড়া স্টেডিয়াম

কাতার বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন। স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, রেল ও সড়ক অবকাঠামো মিলিয়ে যার পেছনে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক দুইশ বিশ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এই ঝকঝকে অবকাঠামোর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিকের রক্ত-ঘাম আর জীবনের বিনিময়ে গড়া এক নির্মম বাস্তবতা।

ব্রিটিশ সংবাদপত্রের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পাওয়ার পর থেকে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অন্তত সাড়ে ছয় হাজার অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে কাতারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম আর অস্বাস্থ্যকর আবাসনের কারণে এসব মৃত্যুর সিংহভাগ ঘটেছে, অথচ কাতার কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা প্রাকৃতিক মৃত্যু বলে নথিভুক্ত করেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। কাফালা নামের শ্রমিক জামানত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তন কিংবা দেশত্যাগের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত রেখেছিল।

ফিফা সভাপতি নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ দেওয়াকেও মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার নামান্তর বলে মন্তব্য করলে তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা আয়োজক নির্বাচনের সময় মানবাধিকার পরিস্থিতি যাচাইয়ের কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত না রাখাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

ব্রাজিলের রাজপথে ‘সবচেয়ে বড় চুরি’র প্রতিবাদ

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ঠিক আগে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। বারো লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন কনফেডারেশন্স কাপের সময়, যার মূল কারণ ছিল সরকারি অর্থে নির্মিত বিলাসবহুল স্টেডিয়াম আর দুর্নীতির অভিযোগ। বার্তা সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা যায়, বারোটি স্টেডিয়ামের মোট নির্মাণ ব্যয় প্রাথমিক প্রাক্কলনের প্রায় চার গুণ বেড়ে চার দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ব্রাসিলিয়া শহরের স্টেডিয়াম, যেখানে কোনো বড় পেশাদার ফুটবল দলই নেই, তার নির্মাণ ব্যয় সরকারি নিরীক্ষায় প্রায় তিনগুণ বেড়ে নয়শ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন

নিরীক্ষকরা দেখতে পান, মাত্র সাড়ে চার হাজার ডলারের একটি পরিবহন কাজের বিল ধরা হয়েছিল প্রায় পনেরো লাখ ডলার, যা জালিয়াতির স্পষ্ট নমুনা। একই সময়ে দেখা যায়, স্টেডিয়াম নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক তহবিলে চাঁদার পরিমাণ পাঁচশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল, যা নির্মাণ সংস্থা আর রাজনীতিকদের মধ্যকার সুবিধাজনক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রোমারিও পরবর্তীতে রাজনীতিবিদ হয়ে এই বিশ্বকাপ আয়োজনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক অন্যায়ের একটি বলে অভিহিত করেছিলেন। নির্মাণকাজ চলাকালে দুর্ঘটনায় আটজন শ্রমিকের মৃত্যুও হয়েছিল, যা নিয়ে পরে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

অর্থনীতিবিদদের চোখে: লাভ নয়, বোঝা

স্মিথ কলেজের অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু জিম্বালিস্ট বহু বছর ধরে অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তার আলোচিত গ্রন্থ সার্কাস ম্যাক্সিমাসে তিনি দেখিয়েছেন, ১৯৬০ সালের পর থেকে প্রতিটি অলিম্পিক আয়োজনেই ব্যয় বেড়েছে গড়ে আড়াই থেকে তিন গুণেরও বেশি, আর বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেও চিত্রটি প্রায় একই। তার ভাষায়, আয়োজক শহরগুলো সাধারণত টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি রাজস্বের ভাগ পায় না, অথচ নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয়ের পুরো বোঝা তাদেরই বহন করতে হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, একটি শহরের জন্য একাই একশ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে, অথচ আয়ের সিংহভাগ চলে যায় ফিফার কোষাগারে। জিম্বালিস্ট আরও দেখিয়েছেন, আয়োজক শহরের অর্থনৈতিক রূপান্তরের যেসব দাবি প্রচার করা হয়, বাস্তবে তার সপক্ষে দীর্ঘমেয়াদি প্রমাণ খুবই সীমিত। বরং বাসিন্দাদের উচ্ছেদ, পরিবেশগত ক্ষতি আর নির্মিত অব্যবহৃত স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ই থেকে যায় দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকার হিসেবে।

২০২৬ বিশ্বকাপেও থামেনি পুরোনো ছায়া

উত্তর আমেরিকার তিন দেশ মিলে আয়োজিত চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপও পুরোনো সমস্যার বাইরে থাকতে পারেনি। আর্জেন্টিনার দল যখন শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি তিনশ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, আর এ নিয়ে সংস্থার সভাপতিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমের ভাষায়, মায়ামি শহরকে কেন্দ্র করে একটি জটিল জাল কোম্পানি আর অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যা মার্কিন ব্যাংকগুলোকে অর্থের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোয় স্বচ্ছতার ঘাটতি নতুন কিছু নয়; বরং প্রতিটি বিশ্বকাপের সঙ্গে তা নতুন রূপে ফিরে আসে।

শেষ কথা: বলের খেলা, নাকি অর্থের খেলা?

১৯৯১ সাল থেকে শুরু হওয়া একটি দুর্নীতি চক্র, আয়োজক নির্বাচনে ঘুষের অভিযোগ, মরুভূমির বুকে হাজারো শ্রমিকের নীরব মৃত্যু, ব্রাজিলের রাজপথে লাখো মানুষের ক্ষোভ, আর সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তদন্ত— এই পুরো ইতিহাস একটি বার্তাই দেয়: বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু খেলার মাঠের গল্প নয়, এটি একটি বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য, যেখানে জবাবদিহিতার অভাব বারবার সুযোগ করে দিয়েছে ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য এই বৈশ্বিক আয়োজনকে ব্যবহার করার।

ফিফা সংস্কারের কথা বলে, নতুন নিয়মকানুন করে, কিন্তু প্রতিটি নতুন বিশ্বকাপের সঙ্গেই যেন নতুন এক কেলেঙ্কারির জন্ম হয়। যতদিন না স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, ততদিন বিশ্বকাপের ঝলমলে পর্দার আড়ালে এই অবৈধ অর্থের খেলা চলতেই থাকবে, আর তার মূল্য শেষ পর্যন্ত গুনতে হবে সাধারণ করদাতা আর নিঃস্ব অভিবাসী শ্রমিকদেরই।

লেখক: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে খালি হাতে। কোনো মূল্যবোধ নিয়ে সে জন্মায় না। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে চারপাশের মানুষ আর পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তার মনে জন্ম নেয় সহানুভূতি। জন্ম নেয় দায়িত্ববোধ।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি সরকারের পতনের দিন ছিল না, সেই দিনটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল।
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
সাক্ষাৎকার / ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
প্রতিবাদই কি কাল হলো
কখনও কখনও একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যাকাণ্ড থাকে না। একটি ঘটনা তার তাৎক্ষণিক পরিণতিকে অতিক্রম করে সমাজ, রাষ্ট্র এবং আমাদের সম্মিলিত বিবেকের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যেগুলোর উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনের নির্মম মৃত্যু তেমনই একটি ঘটনা। ঘটনার শুরু হয়েছিল খুবই তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে নিজের ছোট কারখানার কাছে অবস্থান করছিলেন আলতাফ হোসেন। তার পাশেই একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক প্রবীণ গ্যারেজ মালিক কালামকে ঘিরে ধরেছিল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক। একটি রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশ কাটানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাগ্‌বিতণ্ডা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একজন বয়স্ক মানুষকে প্রকাশ্যে হেনস্তা হতে দেখে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি শান্ত করতে। এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’। তিনি হয়তো তখন ভাবেননি যে একজন মানুষকে অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা তাকে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে। হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা উল্টো তার ওপর চড়াও হয়। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। যে পরিচয় শুনে সাধারণত একজন অপরাধীর থেমে যাওয়ার কথা, সেটিই সেদিন যেন কোনো অর্থ বহন করল না। তাকে চড় মারা হলো। আঘাতে তার কানে রক্তপাত হলো। পরিস্থিতি আরও খারাপ বুঝতে পেরে তিনি নিজের কারখানার ভেতরে চলে গেলেন। কিন্তু হামলাকারীদের ক্ষোভ সেখানে শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর একটি প্রাইভেট কার এসে কারখানার সামনে থামে। এরপর সেখানে জড়ো হয় আরও বহু মানুষ। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে দেশীয় অস্ত্র। তারা কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একজন মানুষের ওপর হামলা করতে গিয়ে তারা তার সন্তানকেও রেহাই দেয়নি। আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে মারধর করা হয়; মাথায় আঘাত করে তাকে সংজ্ঞাহীন করে দেওয়া হয়। এরপর আলতাফ হোসেনের ওপর নেমে আসে একের পর এক আঘাত। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখানে থেমে গিয়ে আমাদের প্রথম প্রশ্নটি করা উচিত: একটা তুচ্ছ বাগ্‌বিতণ্ডা কীভাবে এত বড় সহিংসতায় পরিণত হলো? এর উত্তর কেবল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবকের চরিত্রে খুঁজলে ভুল হবে। কারণ ব্যক্তি অপরাধের পেছনে প্রায়ই একটা সামাজিক পরিবেশ কাজ করে। যে পরিবেশে অপরাধ ছোট হতে হতে বড় হয়, প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, আর আইনকে পাশ কাটিয়ে দলবদ্ধ শক্তিকে ‘ক্ষমতা’ বলে মনে করা শুরু হয়। আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় সন্ত্রাস—এসব আর কেবল বিচ্ছিন্ন খবর নয়। এগুলো অনেক এলাকায় সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অনেক তরুণের মধ্যে অপরাধবোধের জায়গাটি যেন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তারা জানে, দলবদ্ধ হলে ভয় তৈরি করা যায়; ভয় তৈরি করতে পারলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়; আর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আইনকে পাশ কাটানো সম্ভব। এই মানসিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রের দুর্বলতার ধারণা যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী একটি জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগ এবং আন্দোলন দমনে বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা— এসব কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের একাংশের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষোভের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। সেটিকে অস্বীকার করে পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা রয়েছে। পুলিশের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করা এক বিষয়, আর সেই ক্ষোভকে ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে বৈধতা দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। পুলিশও নয়, বরং পুলিশের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুল, অপব্যবহার ও জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, একটি রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত শুধু পুলিশের হয় না; ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। কারণ অপরাধীর কাছে একবার যদি এই বার্তা পৌঁছে যায় যে, সংঘবদ্ধ শক্তি দিয়ে আইনকে ভয় দেখানো যায়, তখন সেই শক্তির পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণের কোনো সীমা থাকে না। আলতাফ হোসেনের মৃত্যু আসলে রাষ্ট্র বনাম আইনহীনতার প্রশ্ন। আর এই জায়গাটিই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের কাজ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা নয়; পুলিশের কাজ হলো আইনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে যেমন জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে, তেমনি রাষ্ট্রকেও তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও কার্যকর আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। যে পুলিশ সদস্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন, সেখানে শুধু পুলিশের দুর্বলতা নয়, রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্নও উঠে আসে। আলতাফ হোসেনের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কারখানার পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় প্রায়ই কিছু যুবক এসে আড্ডা দিত এবং মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকত। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই নাকি চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হতো তাদের। অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি আরও গভীর উদ্বেগের কারণ হবে। কারণ একটি সমাজে অপরাধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় তখনই শুরু হয়, যখন মানুষ অপরাধকে শুধু দেখতে পায় না, বরং তার সঙ্গে বসবাস করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। প্রকাশ্য মাদক সেবনকে আমরা ‘ছেলেপেলেদের দুষ্টুমি’ বলে এড়িয়ে যাই। স্থানীয় বখাটেদের উৎপাতকে ‘এলাকার ব্যাপার’ বলে পাশ কাটাই। অস্ত্র প্রদর্শনকে গুরুত্ব দিই না। তারপর একদিন সেই একই শক্তি যখন বড় কোনো অপরাধ করে বসে, তখন আমরা বিস্মিত হই। অথচ অপরাধের বড় বিস্ফোরণের আগে তার ছোট ছোট শব্দগুলো বহুদিন ধরেই শোনা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবারও কয়েক দিন আলোচনা করে বিষয়টি ভুলে যাব? কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হবে, সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়াবে, তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু অন্য খবরের নিচে চাপা পড়ে যাবে। যদি এমন হয়, তবে আলতাফ হোসেনের মৃত্যু থেকে আমরা কিছুই শিখলাম না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু বিচার মানে শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা নয়। হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, কারা হামলাকারীদের সংগঠিত করেছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে, কারা পরিকল্পনা বা উসকানির সঙ্গে যুক্ত ছিল—তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি স্তর খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচারের অর্থ প্রতিশোধ নয়; ন্যায়বিচারের অর্থ সত্য উদ্‌ঘাটন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ। এর পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারও এখন আর ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার, দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে শুধু শক্তিশালী করলেই হবে না; তাদের বিশ্বাসযোগ্যও হতে হবে। জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃঢ়তা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী তৈরি হয়। একইভাবে সমাজকেও নিজের দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোর গ্যাং তৈরি হওয়ার পর তাদের দমন করার চেয়ে তারা কেন তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে নজরদারির অভাব, শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, মাদকের বিস্তার, কর্মসংস্থানের সংকট, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং স্থানীয়ভাবে অপরাধীদের প্রশ্রয়— সবকিছুর সঙ্গে এই সমস্যার যোগসূত্র রয়েছে। তাই সমাধানও হতে হবে বহুমাত্রিক। তরুণদের হাতে যদি আমরা শুধু নিষেধাজ্ঞা তুলে দিই, কিন্তু বিকল্প কোনো স্বপ্ন না দিই, তাহলে শূন্যস্থানটি অন্য কেউ পূরণ করবে। মাদকব্যবসায়ী, অপরাধী গোষ্ঠী কিংবা কিশোর গ্যাং সেই শূন্যস্থান দখল করবে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে। একটি প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের সামনে সম্মানজনক জীবনের পথ খুলে দেওয়া। সবশেষে ফিরে আসি আলতাফ হোসেনের কাছে। তিনি হয়তো কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তার হাতে ছিল না কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। তিনি ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি নিজের চোখের সামনে একজন প্রবীণ মানুষকে হেনস্তা হতে দেখে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তার সেই সিদ্ধান্ত হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে ঠিক এমন ছোট ছোট মানবিক সিদ্ধান্তের ওপর। একজন অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। একজন দুর্বল মানুষকে রক্ষা করতে আরেকজন এগিয়ে আসবেন, এটাই সভ্যতার লক্ষণ। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যদি প্রাণের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে বুঝতে হবে সমাজের কোথাও বড় ধরনের অসুখ তৈরি হয়েছে। আলতাফ হোসেনের মৃত্যু সেই অসুখেরই রক্তাক্ত উপসর্গ। আমিনবাজারে যে রক্ত ঝরেছে, সেটি আমাদের রাষ্ট্রের আয়নায় উঠে আসা এক কঠিন প্রতিচ্ছবি। সেই আয়নায় আমরা কী দেখতে চাই— একটি ভীত, বিভক্ত ও আইনহীন সমাজ, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষ জানেন যে আইন তার পাশে আছে? সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের, সমাজের এবং আমাদের প্রত্যেকের। লেখক: সাংবাদিক, দি ডেইলি সান আরটিভি/এসএস
প্রতিবাদই কি কাল হলো
আরও পড়ুন
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে, কখন, কোথায়?
ইংল্যান্ড দল থেকে একসঙ্গে ছিটকে গেলেন পাঁচ ফুটবলার
এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়
২০৩০ বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাজিলের প্রস্তুতি শুরু