ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্যোগে শিক্ষা থেমে গেলে ক্ষতি কার?

সানজিদা জান্নাত পিংকি

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস) ও শিক্ষানবিস আইনজীবীর সাবেক সভাপতি সানজিদা জান্নাত পিংকি। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

দেশের দুর্যোগের ইতিহাস দীর্ঘ। বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলাবদ্ধতা, প্রায় প্রতি বছরই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। এসব পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, পরীক্ষা স্থগিত বা ক্লাস বাতিলের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলা যায় না। কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। দুর্যোগের কারণে শিক্ষা যখন থেমে যায়, তখন সেই ক্ষতির হিসাব কে রাখে?

এ বছরের জুলাই মাসেও সেই বাস্তবতার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন একাধিক দিনের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নিলেও এর ফলে হাজারো পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরীক্ষার নতুন সূচি, ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবার দুর্যোগের সময় আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান দেখি। কত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছে, কত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কত সড়ক ডুবে গেছে, এসব তথ্য সামনে আসে। কিন্তু কত শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি, কতজনের সেমিস্টার পিছিয়েছে, কতজনের উচ্চশিক্ষা বা চাকরির পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়েছে, এসব নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়। অথচ এগুলোও দুর্যোগের বাস্তব ক্ষতির অংশ।

শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া, যার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ক্লাস মিস হওয়া বা একটি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার প্রভাব সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমান নয়। যে শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, কিংবা যার চাকরিতে যোগদানের জন্য সনদ প্রয়োজন, তার কাছে এক মাসের বিলম্বও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট। একটি পরীক্ষা স্থগিত হলে শুধু একটি তারিখ পরিবর্তন হয় না। পুরো একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রভাবিত হয়। ফল প্রকাশ পিছিয়ে যায়, পরবর্তী সেমিস্টার শুরু হতে দেরি হয়, গবেষণার সময়সূচি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগে। একজন শিক্ষার্থীর জন্য এটি যেমন ব্যক্তিগত ক্ষতি, তেমনি দেশের জন্যও এটি উৎপাদনশীল মানবসম্পদ তৈরির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) দীর্ঘদিন ধরেই বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহনশীল করে তুলতে হবে। শুধু দুর্যোগের সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়; শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আগেভাগেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের জটিলতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ শিশুর শিক্ষা কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও বিদ্যালয় বন্ধ ছিল, কোথাও শ্রেণিকক্ষ আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে দুর্যোগকে আর ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি এখন শিক্ষা পরিকল্পনার একটি স্থায়ী বাস্তবতা।

করোনা মহামারি আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা পুরোপুরি থেমে থাকেনি। অনলাইন ক্লাস, ভার্চুয়াল মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছিল। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈষম্যের বাস্তবতাও সামনে এসেছিল। অনেক শিক্ষার্থী ইন্টারনেট, স্মার্টফোন বা উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান যথেষ্ট নয়; অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান প্রয়োজন।

দুর্যোগের সময় আরেকটি বাস্তবতা প্রায়ই সামনে আসে। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত হলেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত অফিস করতে হয়। প্রশাসনিক কিছু কাজের প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে যদি একটি পরিস্থিতিকে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়, তাহলে একই ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই কাম্য।

এখানে নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম একাডেমিক পরিকল্পনা, নমনীয় পরীক্ষা সূচি এবং দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা চালু করার সক্ষমতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

সব অঞ্চলের জন্য একই সিদ্ধান্তও সব সময় কার্যকর হয় না। দেশের একটি অংশে বন্যা হলেও অন্য অংশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকতে পারে। তাই অঞ্চলভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার। এতে যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিক্ষা কার্যক্রমও স্থবির হবে না।

দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অবকাঠামো। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা মানবিক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। কিন্তু একই সঙ্গে এমন পরিকল্পনাও থাকতে হবে, যাতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পর দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যায়। কারণ দুর্যোগ শেষ হলেও শিক্ষার ক্ষতি যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়।

আরও পড়ুন

নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শিক্ষা কোনো ব্যয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। আজ যে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আগামীকাল সেই শিক্ষার্থীই দেশের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবী, বিচারক কিংবা প্রশাসক হবে। তার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি অযাচিত বিলম্ব শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের গতিকেও প্রভাবিত করে।

দুর্যোগের সময় নিরাপত্তা অবশ্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ এই নয় যে শিক্ষা পরিকল্পনাও স্থগিত থাকবে। বরং সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কীভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়, সেই সক্ষমতাই একটি আধুনিক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থার পরিচয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতেই হবে। সেই প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা। আগাম পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকল্প শিক্ষা, নমনীয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার কৌশল, এসবকে আর অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এগুলো এখন শিক্ষা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।

দুর্যোগে ভেঙে যাওয়া একটি সেতু পুনর্নির্মাণ করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়কও একসময় মেরামত হয়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া সময় পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। তাই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের সময় শিক্ষা খাতকে শুধু একটি পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

প্রশ্নটি তাই আবারও ফিরে আসে, দুর্যোগে শিক্ষা থেমে গেলে ক্ষতি কার? এর উত্তর একজন শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক বা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই ক্ষতির ভার বহন করে পুরো সমাজ, পুরো অর্থনীতি এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র। কারণ আজকের শ্রেণিকক্ষেই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মিত হচ্ছে। সেই ভিত্তি যেন বারবার অপ্রস্তুত অবস্থায় থেমে না যায়, সেটিই হওয়া উচিত আমাদের নীতিনির্ধারণের অন্যতম অঙ্গীকার।

লেখক: সাবেক সভাপতি, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস) ও শিক্ষানবিস আইনজীবী।

আরটিভি/ এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
একাদশে ভর্তি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
জবিতে যাকাত ও কল্যাণ তহবিলের বৃত্তি পেলেন ৫৬ শিক্ষার্থী
রুয়েটে আবারও ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার