ইরাকে তুরস্কের ১২ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৭ জুলাই ২০২৫ , ০৮:০১ পিএম


ইরাকে তুরস্কের ১২ সেনা নিহত
ফাইল ছবি

ইরাকে এক অভিযান পরিচালনাকালে তুরস্কের ১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন। বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের একটি গুহায় তল্লাশি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় ১৯ সেনা গুরুতর অসুস্থ হন। সেখানে মিথেন গ্যাসের কারণে অন্তত ১২ সেনা নিহত হয়েছেন। রোববার তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিথেন সরাসরি বিষাক্ত নয়, তবে এটি ঘনবদ্ধ ও সংকীর্ণ স্থানে শ্বাসরোধকারী হয়ে উঠতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে। কিভাবে গুহায় এত বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন জমে ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সোমবার নিহতদের মরদেহ দক্ষিণাঞ্চলীয় হাক্কারি প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় সেখানে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২২ সালের মে মাসে তুরস্ক পরিচালিত ‘অপারেশন ক্ল্যাউ লক’ অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত এক সেনার মরদেহের খোঁজে এ তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় গুহায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালানো হয়েছিল।

পিকেকে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চোখে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ১৯৮০-এর দশকে তুরস্ক থেকে স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের দাবিতে তারা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করলেও পরে তারা স্বায়ত্তশাসন ও অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালায়। চার দশকের এই সংঘাতে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে পিকেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর মে মাসে তারা সশস্ত্র সংগ্রামের পদ্ধতি পরিত্যাগ করে সংগঠনটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়। চলতি সপ্তাহেই তাদের কিছু যোদ্ধার ইরাকের কুর্দিস্তানে অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে পিকেকে এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করছি। তুর্কি-কুর্দি সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে।

সংগঠনটি জানায়, এখন থেকে কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও একটি গণতান্ত্রিক কুর্দি জাতি গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। পিকেকে তাদের ‘ঐতিহাসিক মিশন’ শেষ করেছে।

উল্লেখ্য, পিকেকে প্রধান আবদুল্লাহ ওজালান। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে তুরস্কে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক বিবৃতিতে সব সশস্ত্র গ্রুপকে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় এলো এই বিলুপ্তির ঘোষণা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission