ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে লিফটের ভেতর এক নারী কর্মীর কাছ থেকে গলার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ জানুয়ারি) এই ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে ছিনতাইয়ের এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর ঘটনাটি শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন অপরাধ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মীর নাম বর্ষা সোনি এবং তিনি ওই হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের একজন পরিচারিকা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্ল্যাডব্যাংকের পেছনের একটি লিফটে একাই উঠেছিলেন। তখন মুখে মাস্ক পরা এক যুবক লিফটে ঢুকে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করে এবং চোখের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভাগ কোন তলায় জানতে চায়।
লিফট তৃতীয় তলায় পৌঁছালে ওই যুবক বাইরে বেরিয়ে আবার ফিরে এসে হঠাৎ বর্ষার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে তার সোনার মুক্তার হার ও মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বর্ষা বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দেয়া হয়। একপর্যায়ে হামলাকারী মঙ্গলসূত্র নিয়ে সিঁড়ির দিকে পালিয়ে যায়। আর মুক্তার হার ছিঁড়ে লিফটের ভেতরই পড়ে ছিল।
ঘটনাস্থলে তখন কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না। হামলার পর বর্ষা আতঙ্কে কাঁদতে কাঁদতে লিফটের পাশে বসে থাকেন। কিছুক্ষণ পর নিয়মিত টহলে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী তাকে দেখতে পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন।
এই ঘটনায় বাঘসেওয়ানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হলেও এখনও মামলা নথিভুক্ত হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার হওয়ায় নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আইপিডি গেট দিয়ে পালিয়ে যায়। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, মুখ ঢেকে রাখায় হামলাকারীকে শনাক্ত করা কঠিন।
এদিকে এইমস ক্যাম্পাসে আগে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটলেও লিফটের ভেতরে নারীর কাছ থেকে চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা এটাই প্রথম। সাধারণভাবে যে জায়গাকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত মনে করা হয় সেখানেই এমন অপরাধ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অবশ্য নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র (বিএনএস) আওতায় চেইন, পার্স ও মোবাইল ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সাজা কমে গেছে। আগে এসব অপরাধ ডাকাতির আওতায় পড়ত এবং ১০ থেকে ১৪ বছরের সাজা হতো। এখন এগুলো ‘ছিনতাই’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যার সর্বোচ্চ সাজা মাত্র তিন বছর। এছাড়া অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার বাধ্যতামূলক নয়, জামিন অনেক সহজ এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত শুধু নোটিশ পেয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।
ফলে এর প্রভাব এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। গত এক বছরেরও কম সময়ে এসব ঘটনার সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৩৯টি মামলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫টির বেশি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভোপালে এখন ছিনতাইয়ের ঘটনা ব্যাপক বেড়েছে। আগে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ ও কঠোর বিচার হতো। এখন ‘অগুরুতর’ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় পাল্লা ঝুঁকেছে অপরাধীদের দিকে। জেলে যাওয়ার ভয় কমে গেছে, ধরা পড়ার আশঙ্কাও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
আরটিভি/এএ





