ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫ , ০২:৪৬ পিএম


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন 
ফাইল ছবি

অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির জেরে টানা চারদিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর লস অ্যাঞ্জেলেস। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহরগুলোতেও। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিক্ষোভ কবলিত লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড ও ৭০০ মেরিন সেনা সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী সান ফ্রান্সিসকো শহরের ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১০ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও সেনা মোতায়েন করতে পারেন না। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যপ্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করেই লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড ও সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সংবিধান বহির্ভূত কাজ করেছেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে দাবি জানানো হয়েছে, বর্তমানে ন্যাশনাল গার্ড এবং মেরিন বাহিনীর যেসব আধা সামরিক ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, তারা যেন এই বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ট্রাম্পের পরিবর্তে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলেন।

মামলা দায়েরের পর ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বনতা বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অপ্রয়োজনীয়, বিপরীতমুখী এবং সর্বোপরি আইন বহির্ভূত।

বিজ্ঞাপন

মূলত, দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসন উচ্ছেদ এবং নথিবিহীন অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। তারপর থেকেই নথিবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান শুরু করে পুলিশ এবং মার্কিন কাস্টমস বিভাগের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই।

তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলী প্যারামাউন্টে অভিযানে নামে পুলিশ এবং আইসিই। অভিযানের শুরুতেই তারা ব্যাপক প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। প্যারামাউন্টের বাসিন্দারা তীব্র বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশ ও আইসিই সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, বোতল ও মলোটভ ককটেল বা পেট্রোল বোমা ছুড়তে থাকেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে পরের দিন পুলিশ ও আইসিই সদস্যদের সহায়তার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আধা সামরিক বাহিনী হাজার ন্যাশনাল গার্ডের ২ হাজার সদস্যকে মোতায়েনের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটার পরিবর্তে সংঘাত আরও বাড়তে থাকে।  এই অবস্থায় সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড এবং তাদের সঙ্গে ৭০০ মেরিন সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

প্রথম দফায় যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের পাঠানোর সময়েই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম। তখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও ৭০০ মেরিন সেনাসদস্য নামানোর পর সানফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে এ মামলা করল ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য প্রশাসন।

আরটিভি/এসএইচএম/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission