দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু নিশ্চিত করেনি। তবে আগামী শুক্রবারের আগেই দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।
জে ডি ভ্যান্স জানান, এই চুক্তির আওতায় ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটি যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও একটি আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য অঙ্গীকার চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। একই দিন থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। এই চুক্তির আওতায় বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে।
এদিকে এই চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েল তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখবে বলেও তিনি পুনরুল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনা কমানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের দীর্ঘদিনের গভীর অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি রয়ে গেছে। পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর ওপরই এই চুক্তির সফলতা নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আরটিভি/এআর




