৭ লাখ বছরের ঘুম ভেঙে জেগে উঠছে ইরানের আগ্নেয়গিরি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ , ০৭:২১ পিএম


৭ লাখ বছরের ঘুম ভেঙে জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি!
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার বছর ধরে নিস্তেজ থাকা ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তাফতান আগ্নেয়গিরি ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগ্নেয়গিরিটির চূড়ার কাছে ভূমি হঠাৎ উঁচু হতে শুরু করেছে, যা ভূতত্ত্ববিদদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

লাইভ সায়েন্স জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত তাফতান আগ্নেয়গিরির চূড়ার কাছাকাছি একটি অংশের ভূমি ৯ সেন্টিমিটার (৩.৫ ইঞ্চি) উপরে উঠেছে। এই উত্থান এখনো অব্যাহত থাকায় বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, আগ্নেয়গিরির গভীরে গ্যাসের চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণা কেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারাল প্রোডাক্টস অ্যান্ড অ্যাগ্রোবায়োলজির আগ্নেয়গিরিবিদ এবং গবেষণার সিনিয়র লেখক পাবলো গঞ্জালেজ সতর্ক করে বলেছেন, তাফতান আগ্নেয়গিরিকে এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, কারণ আগে এটি কখনোই মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়নি।

ভূতত্ত্ববিদরা সাধারণত ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে থেকে অগ্ন্যুৎপাত না হওয়া আগ্নেয়গিরিকে মৃত বা বিলুপ্ত বলে ধরে নেন। তবে তাফতানের সাম্প্রতিক কার্যকলাপের কারণে পাবলো এটিকে মৃত না ধরে সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় আছে বলে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন

পাবলো গঞ্জালেজ লাইভ সায়েন্সকে জানান, ভবিষ্যতে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে, তবে তাত্ক্ষণিক বিস্ফোরণের কোনো আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, বিস্ফোরণ শান্তভাবে বা জটিলভাবেও ঘটতে পারে।

গনজালেজের তত্ত্বাবধানে থাকা গবেষক মোহাম্মদ হোসেইন মোহাম্মদনিয়া ২০২০ সালে স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে তাফতানকে নিষ্ক্রিয় দেখেন। কিন্তু ২০২৩ সালে স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক মাধ্যমে আগ্নেয়গিরি থেকে গ্যাস নির্গমনের খবর দিতে শুরু করেন। তারা জানান, প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের কাশ শহর থেকেও গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

মোহাম্মদনিয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই ভূমি উত্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যদিও ভূমি কেন উঁচু হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে গবেষকরা ভূমিকম্প বা বৃষ্টিকে এর কারণ হিসেবে বাতিল করেছেন।

ড. পাবলো গঞ্জালেজ জানান, তাদের এই গবেষণার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা নয়। বরং, এটি ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি সতর্ক বার্তা, যাতে তারা আগাম পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারে। গবেষণার পরবর্তী ধাপে বিজ্ঞানীরা এখন আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত গ্যাসের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করবেন।

উল্লেখ্য ১২ হাজার ৯২৭ ফুট  (৩,৯৪০ মিটার)  উচ্চতার একটি স্ট্র্যাটোভলকানো হলো তাফতান।এটি ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত মাক্রান মহাদেশীয় আগ্নেয়গিরি বলয়ের একমাত্র সক্রিয় সদস্য। আরবীয় পাত ইউরেশীয় পাতের নিচে ধীরে ধীরে প্রবেশ করার ফলেই এটি সৃষ্টি হয়েছে। মানব ইতিহাসে এর অগ্ন্যুৎপাতের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না এবং সর্বশেষ বড় অগ্ন্যুৎপাতটি হয়েছিল প্রায় ৭০০,০০০ বছর আগে।

আরটিভি/এআর

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission