যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো বিরল বার্ড ফ্লু স্ট্রেইন এইচ–ফাইভ–এন–ফাইভ (H5N5)–এ একজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এ মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
মৃত ব্যক্তি বয়স্ক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে একাধিক আন্ডারলাইনিং স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন। নভেম্বরের শুরুর দিকে তার শরীরে উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি–সহ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম এইচ–ফাইভ–এন–ফাইভ শনাক্ত হওয়ার পর সিডিসি তা নিশ্চিত করে—যা বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মানব H5N5 সংক্রমণ।
সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য বলছে, H5N5–সহ নতুন কিছু অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মানবদেহে জ্বরের সময় তাপমাত্রা বেড়ে গেলেও টিকে থাকতে এবং বংশবিস্তার করতে সক্ষম। সাধারণ মানব ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যেখানে জ্বরের উচ্চ তাপমাত্রায় সক্রিয়তা হারায়, সেখানে বার্ড ফ্লুর এসব স্ট্রেইন অনেক বেশি সহনশীল।
গবেষকদের মতে, ভাইরাসটির একটি বিশেষ ‘টেম্পারেচার–সেনসিটিভ জিন ভ্যারিয়েন্ট’ এ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রাণী মডেলের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই বৈশিষ্ট্য ভাইরাসকে ফুসফুস বা নিম্ন শ্বাসতন্ত্রে আরও মারাত্মক সংক্রমণ ঘটানোর সুযোগ দেয়—যেখানে স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা বেশি থাকে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক হলেও সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি এখনো কম। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত ব্যক্তির পারিবারিক সদস্য, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে থাকা সবাই এবং তার ব্যবহৃত পাখির খামারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অ্যাভিয়ান ফ্লু ভাইরাস সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হয়ে মানুষের সাথে অভিযোজিত হতে পারে। তাই—
বন্যপাখি,গৃহপালিত পাখি,ব্যাকইয়ার্ড পোলট্রি।
এসব খাতে নিয়মিত নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন এই মানবসংক্রমণ ঘটনা ভবিষ্যতের মহামারি ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরটিভি/এসকে




