ভারতে ইন্ডিগোসহ বিভিন্ন বিমানসংস্থার ফ্লাইট বিপর্যয় অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে বিমান চলাচলে নেমে এসেছে চরম বিশৃঙ্খলা। একের পর এক ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রয়েছেন বিমানবন্দরে, তেমনি তৈরি হয়েছে দুর্ভোগের নানা চিত্র। এর মধ্যেই দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও মানুষের মনে নতুন করে নাড়া দিয়েছে।
৫ ডিসেম্বর ধারণ করা ভিডিওটিতে দেখা যায় ইন্ডিগোর হেল্প ডেস্কে ভিড় জমিয়েছে শতাধিক যাত্রী। তথ্য না পাওয়া, খাবার–পানির সংকট, জরুরি পণ্যের অভাব সব মিলিয়ে যাত্রীরা চরম ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। ঠিক সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে এক বাবা মরিয়া হয়ে হেল্প ডেস্কের দিকে বারবার বলে উঠছিলেন, বোন, আমার মেয়ের জন্য একটা স্যানিটারি প্যাড দিন… প্লিজ একটা প্যাড দিন!
More than 550 IndiGo flights were cancelled today. Thousands of people are stuck in transit, a father was seen pleading for a sanitary pad for his daughter
— Veena Jain (@Vtxt21) December 5, 2025
Do we even have an aviation ministry? What is the minister doing? 🤡 pic.twitter.com/h5NxMoFeC9
জরুরি প্রয়োজনেও প্যাড না পেয়ে অসহায় অবস্থায় সেই বাবার আকুতি মুহূর্তেই সবার হৃদয়ে আঘাত হানে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে এক্স–এ ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং চলছে ব্যাপক আলোচনা।
হিন্দুস্তান টাইমস ও নিউজ১৮–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে থাকা অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের সঠিক তথ্য দিচ্ছে না ইন্ডিগো,খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট।শিশুসহ পরিবারগুলোও পাচ্ছে না জরুরি সামগ্রী, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে যাত্রীরা ক্লান্ত, ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই অসহায় পরিস্থিতির মধ্যেই বাবার প্যাড চাওয়ার মুহূর্তটি যেন বিমানবন্দরের সার্বিক বিশৃঙ্খলার প্রতীক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
ইন্ডিগো বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান পরিবহন সংস্থা, প্রতিদিন পরিচালনা করে প্রায় ২৩০০ ফ্লাইট। সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসির নতুন নীতিমালা যেখানে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের বাধ্যতামূলক ছুটির বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
পর্যাপ্ত ক্রু না থাকায়,শিডিউল ভেঙে পড়ে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বড় বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর অপারেশন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন এবং এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
ভাইরাল ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে বড় বিমানবন্দরে জরুরি পণ্য সরবরাহ ও যাত্রীসেবা কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে? বিশেষ করে নারীস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পণ্য না পাওয়ায় যে ভয়াবহ মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরটিভি/এসকে




