অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অংশ— সাধারণ এই একটি বাক্যের জেরে বেইজিংয়ের মাটিতে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো এক ভারতীয় পর্যটককে। জনপ্রিয় ভ্রমণভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল ‘অন রোড ইন্ডিয়ান’-এর পরিচালক অনন্ত মিত্তাল দাবি করেছেন, চীনে পৌঁছানোর পর তাকে টানা ১৫ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই দীর্ঘ সময়ে তাকে কোনো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
গত ১৬ নভেম্বর চীনের একটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর অভিবাসন কাউন্টারে শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু পাসপোর্টে সিল দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ বদলে যায় দৃশ্যপট। অনন্ত জানান, চীনা কর্মকর্তারা তাকে ডিটেনশন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফোনসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নেয়। শুরুতে যান্ত্রিক ত্রুটি মনে করলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, অরুণাচল নিয়ে তার করা পুরনো একটি ভিডিওই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিটেনশন সেন্টারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে অনন্ত জানান, তাকে যে ঘরে রাখা হয়েছিল সেখানে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটকও ছিলেন। চীনা কর্তৃপক্ষ অন্যদের খাবার দিলেও তাকে দীর্ঘ সময় না খাইয়ে রাখে। তিনি বলেন, “আমি কেবল একজন পর্যটক, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আমার নেই। কিন্তু অরুণাচল নিয়ে আমার আবেগী মন্তব্য যে বেইজিংয়ের গোয়েন্দা নজরে ছিল, তা বুঝতে পারিনি।” অরুণাচলের এক নাগরিককে চীনে আটকের প্রতিবাদে তিনি আগে একটি ভিডিও করেছিলেন, যা তাকে বিপাকে ফেলে দেয়।
দীর্ঘ জেরার পর একপর্যায়ে অনন্ত মিত্তালকে ছেড়ে দেওয়া হলেও এই ঘটনা ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধের আঁচ যে সাধারণ নাগরিকদের ওপরও পড়ছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে পড়াশোনা করা এই ইউটিউবার স্বীকার করেছেন, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুতে কথা বলা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই দেশের কূটনৈতিক শীতলতা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল
আরটিভি/এআর




