ভারতে বড়দিন উদ্যাপন চলাকালে বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও গির্জায় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলাগুলো কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং ভারতের সংবিধান প্রদত্ত ‘উপাসনার স্বাধীনতা’র ওপর সরাসরি আঘাত। তার মতে, যখন কোনো ধর্মীয় ঐতিহ্য আক্রান্ত হয়, তখন পুরো ভারতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর এনডিটিভির।
কেরালার পালাক্কাড়ে শিশুদের ক্যারল দলের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে থারুর বলেন, কেরালাতেও এমন অসহিষ্ণুতা হতবাক করার মতো। তিনি সেন্ট জোসেফ ক্যাথেড্রালে মধ্যরাতের প্রার্থনায় অংশ নেন এবং খ্রিস্টান ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানোকে অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেন। মহাভারতের উদাহরণ টেনে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, অন্যায় দেখে নীরব থাকা মানে আরও বড় অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া।
বড়দিন ঘিরে রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশে চরম উত্তজনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজস্থানের নাগৌরে একটি বেসরকারি স্কুলে বড়দিন পালন করায় বজরং দলের সদস্যরা শিক্ষক ও শিশুদের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের বেরিলিতে সেন্ট আলফনসাস ক্যাথেড্রাল চার্চের সামনে বিক্ষোভ করেন বজরং দলের কর্মীরা। সেখানে তারা হনুমান চালিসা পাঠ করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে চার্চের অনুষ্ঠানে হিন্দু সমাজকে আপত্তিকরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হামলার খবর আসছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির ক্যাথেড্রাল চার্চ অব দ্য রিডেম্পশনে বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা দেন এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার আশা প্রকাশ করেন। তবে শশী থারুর ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে এসব হামলাকারীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। ভারতের বহুত্ববাদী রাজনৈতিক ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘুদের আইনি অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছর ভারতে খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৬০০টি হামলা হয়েছে ।
আরটিভি/এআর





