ইরানে দেশব্যাপী চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের ১৪তম দিনে কড়া বিবৃতি দিয়ে মাঠে নামার সংকেত দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নষ্ট করতে ইসরায়েল ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মঙ্গলবার(১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই বিবৃতিতে তারা জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষায় অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। খবর বিবিসি বাংলার।
বিবৃতিতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে অতীতের গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিবহন ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দমন-পীড়নে অংশ নিতে পারে। ২০১৯ সালের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের সময়ও সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেনাবাহিনীর এই অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিক্ষোভকারীরা যখন শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে অনড়, ঠিক তখনই ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিল তেহরান। সেনাবাহিনী সাফ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সংহতি রক্ষায় তারা কোনো প্রকার আপস করবে না।
এদিকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রকৃত চিত্র আড়ালে থাকলেও বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান তীব্রতর হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই সরাসরি হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির পাশাপাশি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর টহল জোরদার করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এআর





