অবরুদ্ধ গাজায় তীব্র শীতকালীন ঝড় ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় গত কয়েক দিনে অন্তত আট ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই উপত্যকায় নতুন করে শুরু হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁবুতে বসবাসরত হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঝড়ো হাওয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু ভবন ধসে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার(১৩ জানুয়ারি) গাজার সিভিল ডিফেন্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরার।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন কেবল তীব্র ঠান্ডার কারণেই চারজন মারা গেছেন যাদের মধ্যে এক বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। শিশুটি দেইর আল-বালাহ এলাকার একটি তাঁবুতে জমে গিয়ে মারা যায়। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানিয়েছেন, এই শীতে গাজায় এখন পর্যন্ত ছয়টি শিশু হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে গাজা শহরে ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে আরও চারজন নিহত হন যাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।

১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা এবং শীতকালীন সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে গাজার জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। হামাস এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করে একে ‘গণহত্যার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে গাজা শহরের রিমাল এলাকায় আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাসের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণে দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামোগুলো সামান্য ঝড়ো হাওয়াতেই ভেঙে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় অবিলম্বে ত্রাণ ও শীতকালীন সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আরটিভি/এআর





