ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

তিন দেশের সমন্বয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রতি তুরস্ককে যুক্ত করে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনা একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা করছে, যা মূলত ন্যাটোর ‘সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতি’ অনুসারে গড়ে উঠবে। এর অর্থ হলো, কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনকে অন্য সব সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

এই বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গ উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির কাঠামো ন্যাটোর সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। আর এটি শুধু সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বর্তমানে তুরস্ককে যুক্ত করার মাধ্যমে এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।

সৌদি আরব অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে, পাকিস্তান পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জনবল যোগ করবে, আর তুরস্ক সরবরাহ করবে সামরিক দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা। আঙ্কারার থিংক ট্যাংক ‘টেপাভে’র কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের স্বার্থ ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন আঞ্চলিক দেশগুলো নতুন নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কৌশলগত স্বার্থ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অংশে ক্রমেই সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছে। এর ফলে এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট গঠন স্বাভাবিক ও যৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই তিন দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রথম যৌথ নৌবাহিনী বৈঠকেও এ সংযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।

তুরস্কের বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে এই জোটে। কারণ, তুরস্ক শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সদস্য এবং ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত।

সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয়েই ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, যদিও তারা সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেয়। সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতেও তারা একমত।

অন্যদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বহুদিনের। তুরস্ক ইতোমধ্যে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে, এফ-১৬ বিমান বহর আধুনিক করেছে এবং উভয় দেশ ড্রোন প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে। এছাড়া তুরস্ক তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ প্রকল্পে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন

এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনা এমন এক সময় এসেছে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে চারদিন ব্যাপী উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যেখানে তুরস্ক পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

এই নতুন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ জোট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও জোট নির্মাণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
তুরস্কের পার্লামেন্টে ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।
তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
আরও পড়ুন
হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন, প্রতারণার ফাঁদে প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস-বিডিএসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান
স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
এলপিজির তীব্র সংকট পাকিস্তানে