মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ থেকে হঠাৎ করে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।বুধবার(১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে কিছু মার্কিন কর্মকর্তাকে ঘাঁটি ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—এমন খবরের পর অবশেষে মুখ খুলেছে কাতার সরকার। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা’-র কথা মাথায় রেখে আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সদস্যকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ।
কাতারের ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিক এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষার জন্য তারা নিয়মিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই সেনা সরানোর সুনির্দিষ্ট কারণ বা সংখ্যার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দোহা।
এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন কূটনীতিক জানিয়েছিলেন, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার নয় বরং সামরিক অবস্থানের একটি কৌশলগত ‘পুনর্বিন্যাস’। আল উদেইদ ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে যা এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রধান শক্তি।
উল্লেখ্য যে গত বছরের জুনে মার্কিন হামলার জবাবে এই ঘাঁটিতেই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছিল ইরান। এবারও তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সেনাদের নিরাপদ রাখতেই তড়িঘড়ি করে এই অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এআর





