মস্কোতে নিযুক্ত এক ব্রিটিশ কূটনীতিকের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে লন্ডন ও মস্কোর মধ্যে চলমান চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে এই নতুন পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী ওই ব্যক্তি কূটনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মস্কোয় ব্রিটিশ দূতাবাসে বসে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। খবর বিবিসির।
বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওই কূটনীতিকের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে রাশিয়া ত্যাগ করতে হবে। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানাতে ব্রিটিশ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড্যানি ডোলাকিয়াকে তলব করেছে মস্কো। রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে তাদের ভূখণ্ডে কোনো ‘অঘোষিত ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তার’ উপস্থিতি তারা বরদাশত করবে না।
লন্ডন এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটালে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ক্রেমলিন। অন্যদিকে রাশিয়ার এই অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে গত বছরের মার্চেও একই অভিযোগে দুই ব্রিটিশ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছিল রাশিয়া যাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাজ্যও সে সময় রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে কড়া জবাব দিয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। একের পর এক কূটনীতিক বহিষ্কার এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মস্কো ও লন্ডনের মধ্যে এক অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।
আরটিভি/এআর





