ভিক্ষা করে কোটিপতি, আছে বহুতল ৩ বাড়ি ও মারুতি সুজুকি গাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:১৭ এএম


ভিক্ষা করে কোটিপতি, আছে বহুতল ৩ বাড়ি ও মারুতি সুজুকি গাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

বল-বিয়ারিং লাগানো চাকার লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে নীরবে ভিক্ষা করতেন তিনি। কাঁধে ব্যাকপ্যাক, হাত জুতার ভেতরে ঢোকানো দেখলে মনে হতো একেবারে নিঃস্ব ও অসহায় মানুষ। কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যক্তি একজন কোটিপতি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের সরাফা বাজারে ভিক্ষা করা মাঙ্গিলাল নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর জীবনকাহিনি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের সময় এই তথ্য সামনে আসে। ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার গভীর রাতে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে সরাফা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে মাঙ্গিলালকে সাধারণ একজন ভিক্ষুক বলেই মনে করা হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে উঠে আসে এক রূপকথার মতো বাস্তবতা। বছরের পর বছর ধরে ‘নীরব ভিক্ষা’র কৌশল রপ্ত করেছিলেন তিনি। কারও কাছে হাত পাততেন না; শুধু নিজের ঠেলাগাড়িতে বসে থাকতেন। মানুষের সহানুভূতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মিলত দান। ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

তবে আসল আয়ের পথ শুরু হতো সন্ধ্যার পর। তদন্তে জানা গেছে, ভিক্ষা থেকে পাওয়া অর্থ জীবিকা নির্বাহে নয়, বরং বিনিয়োগ করতেন মাঙ্গিলাল। সরাফা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য টাকা ধার দিতেন এবং সুদ আদায় করতেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বাজারে ধার দিয়েছেন এবং সুদ বাবদ প্রতিদিন আয় করতেন প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা।

যাকে এতদিন নিঃস্ব মনে করা হতো, তিনি আসলে শহরের ভালো এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন, বাকি দুটি একতলা। পাশাপাশি তার রয়েছে তিনটি অটোরিকশা, যেগুলো ভাড়ায় চালানো হয়, এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি, যা ভাড়ায় দেওয়া হয়। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (পিএমএওয়াই) আওতায় একটি ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটও পেয়েছেন যদিও তার আগেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।

বিজ্ঞাপন

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যারা তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানে এই ঘটনা এক অপ্রত্যাশিত অধ্যায় যোগ করেছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, ইন্দোরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভিক্ষুক রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভিক্ষা ছাড়তে সম্মত হয়েছেন, ১ হাজার ৬০০ জনকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission