ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিক্ষা করে কোটিপতি, আছে বহুতল ৩ বাড়ি ও মারুতি সুজুকি গাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বল-বিয়ারিং লাগানো চাকার লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে নীরবে ভিক্ষা করতেন তিনি। কাঁধে ব্যাকপ্যাক, হাত জুতার ভেতরে ঢোকানো দেখলে মনে হতো একেবারে নিঃস্ব ও অসহায় মানুষ। কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যক্তি একজন কোটিপতি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের সরাফা বাজারে ভিক্ষা করা মাঙ্গিলাল নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর জীবনকাহিনি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের সময় এই তথ্য সামনে আসে। ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার গভীর রাতে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে সরাফা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে মাঙ্গিলালকে সাধারণ একজন ভিক্ষুক বলেই মনে করা হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে উঠে আসে এক রূপকথার মতো বাস্তবতা। বছরের পর বছর ধরে ‘নীরব ভিক্ষা’র কৌশল রপ্ত করেছিলেন তিনি। কারও কাছে হাত পাততেন না; শুধু নিজের ঠেলাগাড়িতে বসে থাকতেন। মানুষের সহানুভূতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মিলত দান। ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

তবে আসল আয়ের পথ শুরু হতো সন্ধ্যার পর। তদন্তে জানা গেছে, ভিক্ষা থেকে পাওয়া অর্থ জীবিকা নির্বাহে নয়, বরং বিনিয়োগ করতেন মাঙ্গিলাল। সরাফা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য টাকা ধার দিতেন এবং সুদ আদায় করতেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বাজারে ধার দিয়েছেন এবং সুদ বাবদ প্রতিদিন আয় করতেন প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা।

যাকে এতদিন নিঃস্ব মনে করা হতো, তিনি আসলে শহরের ভালো এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন, বাকি দুটি একতলা। পাশাপাশি তার রয়েছে তিনটি অটোরিকশা, যেগুলো ভাড়ায় চালানো হয়, এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি, যা ভাড়ায় দেওয়া হয়। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (পিএমএওয়াই) আওতায় একটি ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটও পেয়েছেন যদিও তার আগেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যারা তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানে এই ঘটনা এক অপ্রত্যাশিত অধ্যায় যোগ করেছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, ইন্দোরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভিক্ষুক রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভিক্ষা ছাড়তে সম্মত হয়েছেন, ১ হাজার ৬০০ জনকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটনে শত শত গাছ কাটায় ক্ষুব্ধ মার্কিন বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি গলফ মাঠে শত শত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দেশটির বিচার বিভাগের আইনজীবীদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন এক ফেডারেল বিচারক।
ওয়াশিংটনে শত শত গাছ কাটায় ক্ষুব্ধ মার্কিন বিচারক
মূল্যস্ফীতির চাপে বাড়ছে ঋণখেলাপি
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষের সংসার খরচ। আয় দিয়ে ব্যয় সামলাতে না পেরে বাড়ছে ঋণনির্ভরতা।
মূল্যস্ফীতির চাপে বাড়ছে ঋণখেলাপি
‘সন্ত্রাসীদের মতো হতে চাই?’, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে তোপ 
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান ক্যাথলিক ধর্মীয় নেতা আর্চবিশপ (খ্রিস্টধর্মের উচ্চপদস্থ ও প্রধান একজন ধর্মযাজক) টিমোথি ব্রগলিও ফোর্ট হুডে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা চিকিৎসক নাসির আবদুল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন।
‘সন্ত্রাসীদের মতো হতে চাই?’, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে তোপ 
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ, বাঁচার পরও জরুরি চিকিৎসায় দেরি!
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও জরুরি চিকিৎসা পেতে দেরি হয়েছে ক্রিস্টা পাইকের।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ, বাঁচার পরও জরুরি চিকিৎসায় দেরি!
আরও পড়ুন
নদীগর্ভে বেড়িবাঁধের একাংশ, হুমকিতে ঘরবাড়ি
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’
বাঁচতে চায় ৭ বছরের অনুষ্কা, প্রয়োজন ৫–৬ লাখ টাকা