ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পর নিখোঁজ ১০ আরোহীর সবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার(২৩ জানুয়ারি) সকালে মাউন্ট বুলুসারাউং এলাকা থেকে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল শেষ মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। গত ১৭ জানুয়ারি ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট (আইএটি) পরিচালিত একটি বিমান জাকার্তা থেকে মাকাসার যাওয়ার পথে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটিতে সাতজন ক্রু এবং মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। ধ্বংসাবশেষ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে যাদের মধ্যে একজন কেবিন ক্রু এবং অন্যজন সরকারি কর্মকর্তা। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে উদ্ধার অভিযান শেষ করতে সাত দিন সময় লেগেছে বলে জানিয়েছে মাকাসার উদ্ধারকারী অফিস।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস জেলার লেয়াং-লেয়াং এলাকায় বিমানটি সর্বশেষ রাডারে ধরা পড়েছিল এবং এর কিছুক্ষণ পরেই এটি পাহাড়ে আছড়ে পড়ে। ইন্দোনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জবেষ্টিত দেশ হওয়ায় বিমান চলাচলের ওপর নির্ভরশীল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেশ কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাদের বিমান নিরাপত্তা রেকর্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধারকৃত ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুতই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
আরটিভি/এআর





