ইন্দোনেশিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপানের দায়ে যুগলকে ১৪০ বার বেত্রাঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:০০ পিএম


বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপানের দায়ে যুগলকে ১৪০ বার বেত্রাঘাত
ছবি সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক এবং মদ্যপানের মতো পৃথক দুটি অপরাধের দায়ে এক তরুণ ও তরুণীকে প্রকাশ্যে ১৪০ বার বেত্রাঘাত বা দোররা মারা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শরিয়া আইন ভঙ্গের দায়ে  তাদের এই কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়। আচেহ প্রদেশের ইতিহাসে এর আগে এক সেশনে কোনো ব্যক্তিকে এত বিপুল সংখ্যক বেত্রাঘাত করার নজির নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। খবর নিউজ ১৮ এর। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, দণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে ওই তরুণী যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাঁদছিলেন। আচেহ-র শারিয়া আইন অনুযায়ী, বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের জন্য ১০০টি এবং মদ্যপানের জন্য আরও ৪০টি—সব মিলিয়ে মোট ১৪০টি বেত্রাঘাত করা হয় তাকে। শাস্তির একপর্যায়ে ওই তরুণী অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মহিলা পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরাধরি করে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন

একই দিনে ওই যুগলের পাশাপাশি আরও চারজনকে বিভিন্ন অপরাধে জনসমক্ষে সাজা দেওয়া হয়েছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আচেহ-র নিজস্ব ইসলামিক পুলিশ বা শরিয়া বাহিনীর একজন সদস্যও ছিলেন। ওই পুলিশ সদস্যকে এক নারীর সঙ্গে একটি নির্জন স্থানে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ায় তাকে ২৩ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে। ওই বাহিনীর প্রধান মুহাম্মদ রিজাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নীতিভ্রষ্ট আচরণের জন্য ওই সদস্যকে কেবল শারীরিক শাস্তিই দেওয়া হয়নি, বরং অচিরেই তাকে তার চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।

ইন্দোনেশিয়া একটি মুসলিম প্রধান দেশ হলেও আচেহ হলো একমাত্র প্রদেশ যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় কঠোরভাবে শারিয়া আইন কার্যকর রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে এই ধরনের বেত্রাঘাতের প্রথাকে দীর্ঘকাল ধরে ‘নিষ্ঠুর এবং অমানবিক’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংগঠনগুলো বারবার এই প্রথা বাতিলের আহ্বান জানালেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একে ধর্মীয় মূল্যবোধের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে। 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের শাস্তি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ, যার প্রমাণ আজকের এই তরুণীর জ্ঞান হারানোর ঘটনা।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission