চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ সপ্তাহে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৫,৫০০ ডলারেরও বেশি হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারাটের এক ভরির দাম এখন ২ লাখ ৭১ হাজার টাকার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। সঞ্চয়কারী থেকে বিনিয়োগকারী সবাই ক্রমশ সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম বাড়ার পেছনে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে সরে এসে নিরাপদ বিনিয়োগের পথ খুঁজছেন। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য যুদ্ধ, নতুন শুল্ক আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে সোনা ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে সবসময়ই জনপ্রিয়।
দ্বিতীয়ত, অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ করে চীন ও ভারত, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়াচ্ছে। এতে করে ডলারের অস্থিরতা থেকে নিজেদের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, মার্কিন ডলারের মান গত চার বছরে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারিত, তাই ডলারের মান কমলে অন্যান্য মুদ্রায় সোনা কেনা সস্তা হয়ে যায়, যা চাহিদা বাড়ায় এবং দাম আরও বাড়ায়।
চতুর্থত, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় ব্যাংকে আমানত থেকে লাভ কমে গেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা সুদ না দিলেও স্বর্ণকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়েও সোনার দাম বাড়তে থাকবে। গোল্ডম্যান স্যাক্সসহ শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬,০০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি
আরটিভি/এসকে





