ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে পুনরায় নৃশংস হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো এই নির্বিচার হামলায় ছয় শিশুসহ অন্তত ২৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও গোলন্দাজ বাহিনী গাজা সিটির জনবহুল এলাকা থেকে শুরু করে মানবিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই নতুন হামলায় আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়েছে গাজা সিটির শেখ রেদওয়ান এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সদরদপ্তরে। সেখানে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন আরও অনেকে। এর আগে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়। সেখানে ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ছয়টি নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসা মানুষগুলো ঘুমের মধ্যেই ইসরায়েলি কামানের গোলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের এই নতুন হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘন করে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া চার মাসব্যাপী এই যুদ্ধবিরতি শুরু থেকেই ভঙ্গুর ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ দিকে এসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বারবার অভিযান পরিচালনা করে পুরো অঞ্চলকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই ধরণের আগ্রাসন চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় ইসরায়েলের এই বেপরোয়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্য করে করা এই হামলাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে তারা গাজার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে তাদের অভিযান জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে হাহাকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা কাজ করলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আরটিভি/এআর





