হামলা হলে ভয়াবহ প্রতিশোধের প্রস্তুতি ইরানের, মহড়া শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:২২ পিএম


হামলা হলে ভয়াবহ প্রতিশোধের প্রস্তুতি ইরানের, মহড়া শুরু
ছবি সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বৃহৎ নৌবহর’ ধেয়ে আসার খবরের মধ্যেই আকাশ ও জলপথে যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন রুখতে এবং যেকোনো হামলার ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি গোলাবর্ষণ বা ‘লাইভ ফায়ার’ মহড়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। রোববার ও সোমবার দুই দিনব্যাপী এই মহড়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের অত্যাধুনিক ড্রোন ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে বলে জানা গেছে।

শনিবার(৩১ জানুয়ারি) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নাবিকদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, মহড়া চলাকালীন হরমুজ প্রণালীর মূল জাহাজ চলাচল পথ বা ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম তাদের গোলার আওতাভুক্ত থাকবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মহড়া কেবল নিয়মিত কোনো অনুশীলন নয়, বরং মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর উপস্থিতির পাল্টা জবাব।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে বা কোনো হামলা চালানো হলে তারা পুরো জলপথটি বন্ধ করে দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিপরীতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনও। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার ভোরে তেহরানকে উদ্দেশ্য করে এক কড়া বার্তায় বলেছে, মার্কিন নৌবহর বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি কোনো ধরণের ‘অপেশাদার আচরণ’ করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। 

সেন্টকমের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী সামরিক বাহিনী এবং যেকোনো উস্কানির জবাব দিতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় বলে এই রুটটি এখন স্নায়ুযুদ্ধের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ দমনের ইস্যু তুলে দেশটিতে হামলার দুটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো এখন ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে ইরান তাদের হাইপারসনিক ও মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রস্তুত রেখে পাল্টা আঘাতের ছক কষছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে শুরু হতে যাওয়া এই মহড়া যেকোনো সময় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission