কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের কাছে কাবার গিলাফের কাপড় পাঠানো হয়েছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৪২ এএম


কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের কাছে কাবার গিলাফের কাপড় পাঠানো হয়েছিল
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কাছে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের (কিসওয়া) কাপড় পাঠানো হয়েছিল এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলস থেকে।

ফাইলসে অন্তর্ভুক্ত ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের একাধিক ইমেইলে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারী ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি ও আব্দুল্লাহ আল-মারি নামের এক ব্যক্তির উদ্যোগে কিসওয়ার তিনটি অংশ এপস্টেইনের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে কিসওয়া অত্যন্ত পবিত্র ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন। প্রতিবছর কাবা শরিফ থেকে পুরোনো গিলাফ খুলে নতুন কিসওয়া পরানো হয়। পুরোনো কিসওয়ার অংশগুলোকে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করা হয়।

এপস্টেইন ফাইলের ইমেইল অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে আকাশপথে এই কাপড়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। চালানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব আনুষঙ্গিক কাগজপত্রও যুক্ত ছিল।

ইমেইলগুলোতে উল্লেখ করা হয়, পাঠানো তিনটি অংশের মধ্যে একটি ছিল কাবা শরিফের ভেতরের অংশ থেকে নেওয়া, একটি বাইরের গিলাফের অংশ এবং তৃতীয়টি একই উপাদানে তৈরি হলেও ব্যবহার করা হয়নি। অব্যবহৃত অংশটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এমনভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে ইমেইলে জানানো হয়।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে চালানটি এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছে। এর আগেই তিনি কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

একটি ইমেইলে আজিজা আল-আহমাদি সরাসরি এপস্টেইনকে উদ্দেশ করে কিসওয়ার ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে লেখেন, এই কালো অংশটি ন্যূনতম এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছেন, সুন্নি, শিয়া ও অন্যান্য মাজহাবের অনুসারীরা।

তিনি আরও লেখেন, তারা কাবা শরিফের চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করেন এবং দোয়া ও অশ্রু এই কাপড়ে রেখে যান এই আশায় যে তাদের প্রার্থনা কবুল হবে।

তবে আহমাদির সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় কীভাবে হয়েছিল কিংবা কেন এই পবিত্র সামগ্রীগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল সে বিষয়ে ইমেইলগুলোতে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এফবিআইয়ের একটি নোটে দাবি করা হয়েছে, জেফরি এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। নোটে বলা হয়, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission