খালিস্তানি নেতাকে হত্যা ষড়যন্ত্রে ‘র সংশ্লিষ্টতা’, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৩৭ পিএম


খালিস্তানি নেতাকে হত্যা ষড়যন্ত্রে ‘র সংশ্লিষ্টতা’, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও মার্কিন নাগরিক গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্ত। 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার(১২ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ৫৪ বছর বয়সী নিখিল গুপ্ত ভাড়াটে খুনি নিয়োগ, খুনের ষড়যন্ত্র এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগগুলো মেনে নিয়েছেন। 

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুল আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী ২৯ মে ঘোষণা করা হতে পারে, যেখানে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মার্কিন কৌঁসুলিদের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, নিখিল গুপ্ত ভারত সরকারের এক কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশে নিউইয়র্কভিত্তিক ওই শিখ রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। 

বিজ্ঞাপন

যদিও নথিতে পান্নুনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ঘটনার বর্ণনা থেকে এটি স্পষ্ট যে তিনিই ছিলেন মূল লক্ষ্য। পান্নুন ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’-এর নেতা এবং খালিস্তান আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। 

ভারত সরকার তাকে আগেই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-এর আওতায় ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগে তার সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের এই নীল নকশাটি অত্যন্ত নাটকীয় ছিল বলে মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগে উঠে এসেছে। তারা জানান, ২০২৩ সালে নিখিল গুপ্তকে নিয়োগ দিয়েছিলেন বিকাশ যাদব নামে এক ব্যক্তি, যিনি ভারতের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ -এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, পান্নুনকে হত্যার জন্য এক লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছিল এবং অগ্রিম হিসেবে ১৫ হাজার ডলার প্রদান করা হয়। তবে নিখিল গুপ্ত যাদের সাথে ভাড়াটে খুনি হিসেবে যোগাযোগ করেছিলেন, তারা আসলে ছদ্মবেশে কাজ করা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ফলে এফবিআই এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সমন্বিত অভিযানে এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়।

এই মামলার আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৩ সালের জুন মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর। নিখিল গুপ্ত তার ছদ্মবেশী সহযোগীদের জানিয়েছিলেন যেন প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা হত্যাকাণ্ড না ঘটে। তবে একই মাসে কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর নিহত হওয়ার পর তিনি দ্রুত পান্নুনকে হত্যার জন্য তাগিদ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে নিখিল গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২৪ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়।

এই ঘটনাটি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কিছুটা হলেও ছায়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করার পর ভারত সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে ভারত সরকার শুরু থেকেই এই ধরণের কোনো রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission