৬ হাজার বছর ধরে বিলুপ্ত মনে করা পোসাম ও গ্লাইডারের খোঁজ মিলল পশ্চিম পাপুয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৪৩ পিএম


৬ হাজার বছর ধরে বিলুপ্ত মনে করা পোসাম ও গ্লাইডারের খোঁজ মিলল পশ্চিম পাপুয়ায়
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানের ভাষায় এমন আবিষ্কারকে বলা হয় 'লাজারাস ট্যাক্সন'। বাইবেলের লাজারাস চরিত্রটি যেমন মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত হয়েছিলেন, এই শব্দটি দিয়ে তেমনই 'হারিয়ে গিয়ে ফিরে আসা' প্রাণীদের বোঝানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পশ্চিম পাপুয়ার গহীন বৃষ্টি অরণ্যে  এমন দুটি প্রাণী খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের ৬ হাজার বছর আগেই বিলুপ্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল।

এর একটি হলো ছোট আকারের পসাম, যার প্রতিটি হাতে একটি করে আঙুল অস্বাভাবিক রকমের লম্বা। অন্যটি হলো রিং-টেইলড গ্লাইডার, যার লেজ দিয়ে সে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কারকে 'ব্যতিক্রমী' ও 'অসাধারণ' বলে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৬ মার্চ) 'অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম' জার্নালের রেকর্ডে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলছেন, হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজাতির জীবিত উদাহরণ পাওয়া যেখানে বিরল, সেখানে একসঙ্গে দুটি প্রজাতি খুঁজে পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য।

বিজ্ঞানের ভাষায় এমন আবিষ্কারকে বলা হয় 'লাজারাস ট্যাক্সন'। বাইবেলের লাজারাস চরিত্রটি যেমন মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত হয়েছিলেন, এই শব্দটি দিয়ে তেমনই 'হারিয়ে গিয়ে ফিরে আসা' প্রাণীদের বোঝানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিশিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী অধ্যাপক টিম ফ্ল্যানারি বলেন, একটি লাজারাস ট্যাক্সন খুঁজে পাওয়াই ব্যতিক্রমী ঘটনা। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে বিলুপ্ত বলে মনে করা দুটি প্রজাতি একসঙ্গে আবিষ্কার করাটা সত্যিই অসাধারণ।

পুনরায় আবিষ্কৃত প্রথম প্রজাতিটি হলো পিগমি লং-ফিঙ্গারড পসাম। এটি ডোরাকাটা মার্সুপিয়াল বা থলিযুক্ত প্রাণী, যার ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম। ধারণা করা হতো, বরফ যুগের সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে এটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিটি হাতের চতুর্থ আঙুলটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ লম্বা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই লম্বা আঙুল দিয়ে সে গাছের গর্ত থেকে তার প্রধান খাবার কাঠখেকো পোকার লার্ভা বা শূককীট বের করে আনে।

দ্বিতীয় প্রজাতিটি হলো রিং-টেইলড গ্লাইডার। এর অস্ট্রেলিয়ান জাতভাই 'গ্রেটার গ্লাইডার'-এর মতোই এটিও লম্বা গাছের গর্তে বাস করে।

এই আবিষ্কারগুলো কোনো হঠাৎ পাওয়া সাফল্য নয়। বিজ্ঞানীরা দশকের পর দশক ধরে পুরোনো জীবাশ্ম, দুর্লভ ছবি এবং সংরক্ষিত নমুনা ঘেঁটে সূত্র সংগ্রহ করেছেন। এরপর তারা নিউ গিনির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযানে যান।

অধ্যাপক ফ্ল্যানারি, গবেষণাপত্রের সহ-লেখক অধ্যাপক ক্রিস হেলগেন এবং পাপুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তামব্রাউ এবং মেব্রাত গোত্রের স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলেন। এই গোত্রগুলোর অনেকের সঙ্গেই আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ হয়েছে মাত্র ১৯৬০-এর দশকে।

download

সহ-লেখক রিকা কোরাইন জানান, স্থানীয়দের সাহায্য ছাড়া এই প্রজাতিগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।

ফ্ল্যানারি বলেন, তারা খুবই প্রথানুগত মানুষ। তারা গ্লাইডারকে এতটাই পবিত্র মনে করে যে তারা এটি শিকারই করে না, এমনকি এর নামও মুখে আনে না।

তবে ফ্ল্যানারি সতর্ক করে বলেন, ওই এলাকায় গাছ কাটার কারণে গ্লাইডারের বাসস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

এ কারণেই বিজ্ঞানী ও বন্যপ্রাণী সংস্থাগুলো এখন ওই বনের ওপর স্থানীয়দের মালিকানা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া সেখানে গাছ কাটা না যায়। সূত্র: বিবিসি

আরটিভি/এমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission