প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৩৪ পিএম


প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি গায়ে লেগেছে উপসাগরীয় দেশগুলোর। গত কয়েক দিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে কাতার জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১১ মার্চ) আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বর্তমান বৈরী পরিবেশ নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। 

প্রতিমন্ত্রী আল-খুলাইফি বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে তাতে ‘কারও কোনো কল্যাণ হবে না’। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এই অঞ্চলের জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার মনে করে, প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ইরানের এক বড় কৌশলগত ভুল।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো দীর্ঘকাল ধরে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। আল-খুলাইফি এই দেশগুলোর ওপর ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা সব সময় সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছি, কিন্তু আক্রান্ত অবস্থায় কোনো দেশই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবে না। কাতার তার সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো অন্যায্য হামলার বিরুদ্ধে আইনি ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

কয়েক দিন আগে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির কোনো আশানুরূপ পরিবর্তন না আসায় দোহার পক্ষ থেকে এবার কড়া বার্তা দেওয়া হলো। কাতার মনে করিয়ে দিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা ইরানের নিজের স্বার্থেই জরুরি, অন্যথায় তারা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকেও হারাবে।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ’। চলমান সামরিক অভিযানের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

দোহা মনে করে, একটি টেকসই সমাধানের জন্য সামরিক শক্তি নয়, বরং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

কাতার বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শত্রুতা পরিহার করে শান্তির পথে হাঁটার অনুরোধ জানিয়েছে দোহা। আল-খুলাইফি পুনরুক্তি করেন যে, ইরানকে এটা বুঝতে হবে যে আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের প্রতিপক্ষ নয়। যুদ্ধকালীন উত্তজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে কাতার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission