ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে তৃতীয় দফার হামলা, তেল আবিব জুড়ে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:৫৫ পিএম


ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে তৃতীয় দফার হামলা, তেল আবিব জুড়ে আতঙ্ক
ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন তেল আবিবের বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে ৩২ দিন ধরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেইসঙ্গে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হচ্ছে ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও।  তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলনে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। 

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা। এরই মধ্যে গত ২৮ মার্চ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনের হুতিরা।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবারও (১ এপ্রিল) ইসরায়েলে আরেকটি ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইসরায়েলে চালানো হুতিদের তৃতীয় হামলা। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হুতিরা। ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে মিলে চলতি যুদ্ধে নিজেদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে তারা। একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ‘ইসরায়েলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ‘ভয়াবহ’ করে তোলার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে ইরান এবং তাদের সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর যৌথ হামলার মুখে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে ইসরায়েলের তেল আবিবে। ত্রিমুখী হামলার মুখে মুহূর্মুহূ সাইরেন বেজে উঠছে অঞ্চলটিতে। ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারকে। 

প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ৩২ দিন ধরে চলমান এই যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।

তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতির বাহিনীর এই যুদ্ধে যোগদান অনেকটাই শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের। এছাড়া, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এখন আরও কার্যকরভাবে শত্রুপক্ষের ওপর আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে তারা। 

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission