ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে তৃতীয় দফার হামলা, তেল আবিব জুড়ে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন তেল আবিবের বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে ৩২ দিন ধরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেইসঙ্গে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হচ্ছে ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও। তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলনে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা। এরই মধ্যে গত ২৮ মার্চ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনের হুতিরা।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবারও (১ এপ্রিল) ইসরায়েলে আরেকটি ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইসরায়েলে চালানো হুতিদের তৃতীয় হামলা।

বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হুতিরা। ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে মিলে চলতি যুদ্ধে নিজেদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে তারা। একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ‘ইসরায়েলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে তারা।

আরও পড়ুন

লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ‘ভয়াবহ’ করে তোলার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে ইরান এবং তাদের সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর যৌথ হামলার মুখে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে ইসরায়েলের তেল আবিবে। ত্রিমুখী হামলার মুখে মুহূর্মুহূ সাইরেন বেজে উঠছে অঞ্চলটিতে। ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারকে।

প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ৩২ দিন ধরে চলমান এই যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।

তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতির বাহিনীর এই যুদ্ধে যোগদান অনেকটাই শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের। এছাড়া, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এখন আরও কার্যকরভাবে শত্রুপক্ষের ওপর আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে তারা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। তবে এখনই নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের কাজ। গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসকে
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক
নতুন স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৫ অক্টোবর) তিন দেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ঘোষণা করা হয়।
সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক
কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল
কুয়েতের সরকারি গেজেট কুয়েত আল ইয়ৌমে প্রকাশিত ছয়টি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল
হঠাৎ সেনাপ্রধানদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত বলে ইতোমধ্যেই জানিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
হঠাৎ সেনাপ্রধানদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের
আরও পড়ুন
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে খুবিসাসের মানববন্ধন
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
রাবিতে হামলা: চোখে কালো কাপড় বেঁধে ইবি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের