ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি দেশটির সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ তথ্য জানান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ।
তিনি বলেন, সোমবার(১৬ মার্চ) রাতে পরিচালিত ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয় এবং তিনি নিহত হন। এর আগে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আলী লারিজানি ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় একজন প্রভাবশালী ও তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের দর্শন নিয়েও লেখালেখি করেছেন এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ অনুমোদনে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৫৮ সালের ৩ জুন ইরাকের নাজাফে এক প্রভাবশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লারিজানি। তার পরিবার ইরানের রাজনীতিতে এতটাই প্রভাবশালী যে একসময় তাদের ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলা হয়। তার বাবা মির্জা হাসেম আমোলি ছিলেন একজন খ্যাতিমান ধর্মীয় পণ্ডিত। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যরা বিচার বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
লারিজানির পারিবারিক সম্পর্ক ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে।
১৯৭৯ সালের ইরানের রেভুলেশনের পর তিনি আইআরজিসি-এ যোগ দেন। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৫ সালে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং প্রধান পারমাণবিক আলোচক নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালে পার্লামেন্টে (মজলিস) নির্বাচিত হয়ে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও জোরদার করে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি আবারও নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
ইসরাইলের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরবর্তী আপডেটের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/এসকে




