রাশিয়ায় মোজতবা খামেনির চিকিৎসা নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন দাবি ইরানি রাষ্ট্রদূতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৮:২৩ পিএম


রাশিয়ায় মোজতবা খামেনির চিকিৎসা নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন দাবি ইরানি রাষ্ট্রদূতের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের  নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনগুলো নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই খবরকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে মস্কোতে চিকিৎসাধীন। ওই সব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এক যৌথ বিমান হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে মস্কোতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং রাশিয়ায় অবস্থান নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রেমলিন। রুশ সরকারের এই রহস্যময় নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি দাবি করেছেন, সর্বোচ্চ নেতা দেশেই আছেন এবং তিনি সুস্থ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত সপ্তাহে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি বা ভিডিও জনসমক্ষে না আসায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্ন দাবি করে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন, যা গোপন রাখতেই তাকে দেশের বাইরে নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

বিজ্ঞাপন

এর জেরে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। তবে সেই হামলা থেকে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি। 

এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৮ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ইরানে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission