যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ সুবিধা ইউ ভিসা পাওয়ার জন্য সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।
ডিওজে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি দোকানে ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানো হয়েছিল যাতে দোকানের কর্মচারীরা নিজেদের সহিংস অপরাধের শিকার হিসেবে দেখিয়ে বিশেষ ইউ ভিসার আবেদন করতে পারেন। ২০২৩ সালের মার্চে ম্যাসাচুসেটসের অন্তত ছয়টি কনভিনিয়েন্স স্টোর ও মদের দোকানে এসব ‘ভুয়া’ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতি বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রিচডেল ফুড শপস, সুপার মার্ট, মাইকেলস ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটস, যোগিস লিকার্স, জিমিস মার্কেট অ্যান্ড লিকার্স এবং অস্টিনস লিকার্স শপে বিভিন্ন সময়ে ডাকাতির ঘটনা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন- জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল (৩৯), যিনি অবৈধভাবে ম্যাসাচুসেটসের মার্শফিল্ডে বসবাস করছিলেন। মহেশকুমার প্যাটেল (৩৬), যিনি অবৈধভাবে ম্যাসাচুসেটসের র্যান্ডলফে বসবাস করছিলেন। সঞ্জয়কুমার প্যাটেল (৪৫), যিনি অবৈধভাবে ম্যাসাচুসেটসের কুইন্সিতে বসবাস করছিলেন। দীপিকাবেন প্যাটেল (৪০), যিনি ম্যাসাচুসেটসের ওয়েমাউথে অবৈধভাবে বসবাসের পর ভারতে বহিষ্কৃত হয়েছেন। রমেশভাই প্যাটেল (৫২), যিনি অবৈধভাবে কেন্টাকির ইউব্যাঙ্কে বসবাস করছিলেন। অমিতাবাহেন প্যাটেল (৪৩), যিনি অবৈধভাবে ম্যাসাচুসেটসের প্লেইনভিলে বসবাস করছিলেন। রোনাককুমার প্যাটেল (২৮), যিনি অবৈধভাবে মিসৌরির মেরিল্যান্ড হাইটসে বসবাস করছিলেন। সঙ্গীতাবেন প্যাটেল (৩৬), যিনি অবৈধভাবে ম্যাসাচুসেটসের র্যান্ডলফে বসবাস করছিলেন। মিনকেশ প্যাটেল (৪২), যিনি অবৈধভাবে ওহাইওর পেরিসবার্গে বসবাস করছিলেন। সোনাল প্যাটেল (৪২), যিনি অবৈধভাবে ওহাইওর পেরিসবার্গে বসবাস করছিলেন। মিতুল প্যাটেল (৪০), যিনি অবৈধভাবে ম্যাসাচুসেটসের উরচেস্টারে বসবাস করছিলেন।
তদন্তে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি ডাকাত সেজে দোকানে ঢুকে বন্দুকের মতো দেখতে অস্ত্র দেখিয়ে ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেত। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভিতে ধারণ করা হতো। এরপর দোকানের কর্মচারীরা কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুলিশে ফোন করে ডাকাতির অভিযোগ জানাতেন। পরে সেই ভিডিও ব্যবহার করে তারা নিজেদের সহিংস অপরাধের শিকার দাবি করে ইউ ভিসার আবেদন করতেন।
বিভিন্ন দেশের নাগরিক যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে গুরুতর হামলার শিকার হয়েছেন এবং যে কোন অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করেন তাদেরকেই এই ভিসা প্রদান করা হয় আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই ভিসা সাধারণত চার বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে এবং কখনো কখনো আবেদনকারীর স্বামী বা সন্তানদের ক্ষেত্রেও সুবিধা দিতে পারে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পরিকল্পনার মূল সংগঠক ছিলেন নিউইয়র্ক এ থাকা রাজ প্যাটেল। অভিযোগ অনুযায়ী, যারা নিজেদের “ভিকটিম” হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলেন তারা তাকে প্রায় ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দিয়েছিলেন। পরে তিনি দোকান মালিকদেরও প্রায় ২ হাজার ডলার করে দিতেন যাতে তাদের দোকানে এই সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটানো যায়। রাজ প্যাটেল ইতোমধ্যে এই মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন।
গত শুক্রবার অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন ম্যাসাচুসেটসে গ্রেপ্তার হয়ে ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন। অন্যদের কেন্টাকি, মিসৌরি ও ওহাইওতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরে তাদের বোস্টনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তি এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আরটিভি/এমএ





