ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর পেন্টাগনের মতে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই দেশটিতে ১৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ওই হামলায় প্রায় ১৭৫ জন শিশু ও শিক্ষক নিহত হয়েছে।

এই যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ১২.৭ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে সেই ব্যয় সম্ভবত ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের খরচ প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার করে বাড়ছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর এক সপ্তাহ পর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেস সদস্যদের একটি গোপন বৈঠকে জানান, প্রথম ছয় দিনেই যুদ্ধের খরচ ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

তবে এটাই পুরো চিত্র নয়। বৈঠকের তথ্য জানেন এমন সূত্রগুলো দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, এই হিসাব মূলত অস্ত্র ব্যয়ের মধ্যে সীমিত ছিল। এতে অঞ্চলে মোতায়েন বাহিনীর খরচ, চিকিৎসা ব্যয় বা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক বিমান প্রতিস্থাপনের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ছয় দিনের মাথায় সিএসআইএস মোট ব্যয় ১২.৭ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নির্ধারণ করে। বর্তমানে এই ব্যয় ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং যুদ্ধব্যয় বেড়েই চলেছে। হোয়াইট হাউস নিজস্ব কোনো ব্যয়ের হিসাব দেয়নি। পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মন্তব্যের জন্য একে অপরের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে—দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার। এতে দ্রুত অস্ত্র মজুদ কমে যেতে থাকে। পরে তুলনামূলক কম দামের স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার শুরু হলেও ততক্ষণে অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ পড়ে গেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ১৫ মিনিটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শাজারাহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হানে, যেখানে ১৭৫ জন নিহত হয়। একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার।

যুদ্ধের ছয় দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৩০০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে সিএসআইএস জানিয়েছে। যার মোট খরচ ১.২ বিলিয়ন ডলার। তবে শুধু টমাহক নয়, ছয় দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর মূল্য প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।

৩ মার্চের মধ্যে ইরান পাল্টা হিসেবে ২৫০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এগুলো প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয় প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে থাড (THAAD)–এর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়—যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষতির ১.৪ বিলিয়ন ডলার ও অপারেশন ব্যয় ২৭ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে প্রথম ছয় দিনের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২.৭ বিলিয়ন ডলার।

সিএসআইএস তাদের হিসাব করেছে পেন্টাগনের দেওয়া ১১.৩ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক হিসাব থেকে শুরু করে, সঙ্গে যুক্ত করেছে প্রতিরক্ষা বাজেট, কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের তথ্য ও সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করছে কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অন্যান্য সামরিক বাস্তবতার ওপর। ফলে এই যুদ্ধের প্রকৃত খরচ আরও বেশি হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার (১৮ মিলিয়ন ডলার) জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মজবুত: মাহদী আমিন
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এককভাবে বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য: স্পিকার
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ