সুদানে হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা, শিশুসহ নিহত ৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৩৬ পিএম


সুদানে হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা, শিশুসহ নিহত ৬৪
ছবি: সংগৃহীত

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সুদানের দারফুর অঞ্চলে এক বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনই শিশু। 

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে পূর্ব দারফুরের রাজধানী আল দাইনের একটি টিচিং হাসপাতালে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

বিবৃতিতে বলা হয়, আল দাইন টিচিং হাসপাতালে চালানো হামলায় রোগী ছাড়াও দুজন নারী নার্স এবং একজন পুরুষ চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আটজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ৮৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

বিজ্ঞাপন

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অসহায় রোগীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। 

তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে চলা সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬ জন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ডব্লিউএইচও-র নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১৩টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি হামলার পরই সুদানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সেবাকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।

হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল স্থাপনায় এমন হামলাকে ‘মর্মান্তিক ও অমানবিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সুদানের এই সংঘাত কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হাসপাতালেও থাবা বসিয়েছে। 

আল দাইন টিচিং হাসপাতালে এই নৃশংস হামলার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী, সে সম্পর্কে এখনো কোনো পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়নি। সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর দোষারোপ করে আসছে। তবে নিরপেক্ষ কোনো তদন্ত না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে আল দাইন শহরে কোনো কার্যকর হাসপাতাল না থাকায় আহতদের জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানান্তর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission