নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন অসুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায় এবং এটি দুই ধরনের গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর একটি কিডনিতে প্রভাব ফেলে, অন্যটি ফুসফুসে আঘাত হানে যা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।
ফুসফুস আক্রান্ত হলে রোগটি হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম নামে পরিচিত (এইচপিএস) নামে পরিচিত। এতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই ধরনের সংক্রমণ সাধারণত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় বেশি দেখা যায়।
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ২০০ জন এইচপিএসে আক্রান্ত হন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে খ্যাতিমান পিয়ানোবাদক বেটসি আরাকাওয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যা এ রোগের ঝুঁকিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) জানিয়েছে, ভাইরাসে সংক্রমণের ১ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি ও শরীরব্যথার মতো ফ্লু-সদৃশ লক্ষণ দেখা দেয়। এরপর ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসে তরল জমে যায়।
সিডিসি আরও জানায়, সংক্রমণের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় রোগ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় এটি অনেক সময় সাধারণ ফ্লু হিসেবে ভুল ধরা পড়ে।
হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা কার্যকর চিকিৎসা এখনো নেই। চিকিৎসায় মূলত বিশ্রাম, শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বসতবাড়িতে ইঁদুরের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। ইঁদুরের শুকনো বিষ্ঠা বা মল ঝাড়ু বা ভ্যাকুয়াম করার সময় সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এতে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তারা পরামর্শ দেন, ইঁদুরের বসবাসের স্থান পরিষ্কার করার সময় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
আরটিভি/এসকে




